বিদেশফেরত অভিজ্ঞ কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর

২৩৪

বিদেশফেরত অভিজ্ঞ কর্মীদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। রবিবার (২৩ আগস্ট) জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি)  আয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘আই অ্যাম জাপান’ প্রোগ্রামের আওতায় জাপানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আট  জন টেকনিক্যাল ইন্টার্নের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান জানান।

ইমরান আহমদ বলেন, ‘সরকার অনগ্রসর জেলাগুলো থেকে অধিক সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানোর ওপরে গুরুত্ব আরোপ করেছে। এছাড়াও বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত লক্ষ্য পূরণে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। করোনাত্তর পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসময় বিদেশ প্রত্যাগত অভিজ্ঞ কর্মীদের দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট আহ্বান প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাপানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল ইন্টার্নরা বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। দেশে বিদেশে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকুরির সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাপানিজ ভাষায় অধিকতর দক্ষতা অর্জন করায় তাদেরকে জাপানিজ ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এছাড়াও শিক্ষা নবিশকালে জাপানে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট সেক্টরে উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা করতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনের  সভাপতিত্বে  আরও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম।

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মাসংস্থান মন্ত্রণালয় ও ‘আই অ্যাম জাপানের’ সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির আওতায় এপর্যন্ত ১৪৪ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানে গমন করেছে। প্রথম ব্যাচে ১০ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট  জাপানে যান। সেদেশে যাওয়া ১০ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্নের প্রত্যেকেই তিন বছর প্রশিক্ষণকাল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং তাদের মধ্যে ৮ জন গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। জাপানের প্রোগামে প্রশিক্ষণকালীন পারিশ্রমিক হিসেবে তারা মাসিক ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার জাপানিজ ইয়েন বেতন পেয়েছেন। এতে তিন বছরে তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ৪৩ থেকে ৫৪ লাখ টাকা উপার্জন করেছে। উল্লিখিত ১০ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানের বিভিন্ন কোম্পানিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং, প্লাস্টিক মোল্ডিং, রড বাইন্ডিং ও স্কাফোল্ডিং ট্রেডের ওপর জাপানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং তারা জাপানিজ ভাষার ওপরেও দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছেন। 

আই অ্যাম জাপান প্রোগামের আওতায় ৬ লাখ টাকার চেকপ্রাপ্ত ৮ জন ইন্টার্নরা হলেন— মাহিন হাওলাদার, সাদ্দাম হোসেন,  নবির হোসেন,  তাহির তৈয়ব, ফিরোজ মাহমুদ লিটন,  মিজানুর রহমান,  রুহুল আমিন ও নাজমুল হুদা।