শারীরিক দূরত্ব মানতে অন্যদের অনীহার কারণে নিজের পক্ষেও শারীরিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয় না বলে একটি জরিপে মত দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। ব্র্যাক ও লাইফবয়ের যৌথ উদ্যোগে ৩১ শে জুলাই থেকে ১১ই আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে একটি জরিপ পরিচালনা করে প্রথম আলো। সেখানে ৬১ দশমিক ১০ শতাংশ বলছেন, শারীরিক দূরত্ব বজায়ের নিয়ম অন্যরা মাননে না বলে ইচ্ছা থাকলেও তারা (জরিপে অংশগ্রহণকারীরা) মানতে পারেন না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এক ডিজিটাল অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও এনিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানিয়েছে ব্র্যাক।
ব্র্যাক বলছে, 'করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা' বিষয়ক একটি মতামত জরিপে ৬১ দশমিক ১০ শতাংশ মতে বলা হয়েছে: শারীরিক দূরত্ব বজায়ের নিয়ম অন্যরা মানেন না বলে ইচ্ছা থাকলেও তারা মানতে পারেন না। শতকরা ৬৭ দশমিক ৪০ ভাগ মতে জানা যায়, মাস্ক পরলে গরম ও অস্বস্তি লাগে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে মত দিয়েছেন ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ। নিয়মিত হাত ধোয়াকে ৭২ দশমিক ৬০ শতাংশ উপকারী বললেও ৬ দশমিক ১০ শতাংশে এই সতর্কতার কথা মনে থাকে না বলেও জানিয়েছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রথম আলোর অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপটি মূলত মতামতনির্ভর। এতে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৮১টি মতামত পাওয়া গেছে। জরিপের ১০টি প্রশ্নের মধ্যে পাঁচটি ছিল মাস্ক সম্পর্কিত, চারটি হাত ধোয়া এবং একটি সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে।
জরিপের অন্যতম প্রশ্ন ছিল, মাস্ক ব্যবহারের ফলে কীভাবে ঝুঁকি কমে? এর জবাবে ৮৫ দশমিক ২০ শতাংশ মনে করেন, সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করলে হাঁচি-কাশির জলীয় কণার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে না। ৮ দশমিক ৭০ শতাংশের মতে, এতে করে দূষিত বাতাস ফুসফুসে যায় না। অপরদিকে মাস্ক ব্যবহারে যে ঝুঁকি কমে তা বিশ্বাসই করেন না ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
জরিপে অংশ নেওয়ার আগের দিন ৩ থেকে ৫ বার হাত ধুয়েছেন বলে ৩৫ দশমিক ৫০ শতাংশ মত দিয়েছেন। ৬ থেকে ৯ বার ধোয়ার হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশের মতে, দিনে ১০ বারেরও বেশি হাত ধোয়ার অভ্যাসের কথা জানা গেছে। শতকরা ৯ ভাগের মতে আগের দিন ১ থেকে ২ বার হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে।
৩ ফুটের শারীরিক দূরত্ব বজায়ের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা যথেষ্ট জায়গা না পাওয়া, এমনটা প্রকাশ পেয়েছে ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ মতে। ৬১ দশমিক ১০ শতাংশ মত এসেছে- অন্যরা এই নিয়ম মানে না বলে তাদেরও সবসময় মানা হয় না। অল্পসংখ্যক মত (৬ দশমিক ১০ শতাংশ) পাওয়া গেছে যাদের এই সতর্কতার কথা মনেই থাকে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, 'এই দেশে মার্চ মাসে করোনা শুরু হওয়ার পর আগস্ট মাসে এসেও আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। যুক্তিপূর্ণ আচরণ আর কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো চালিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রচার, সুবিধাজনক স্থানে সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখা, রোগী শনাক্ত করা, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা ও সমাজে এ বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে হবে। এরকম জরিপের মাধ্যমে মাঠের অবস্থা বোঝা যাবে।'
ইউনিলিভার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর আফজাল হাসান খান বলেন, 'লাইফবয় ব্র্যান্ডের একটা লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন বাঁচানো। পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধে অনেকদিন থেকেই আমরা কাজ করছি। তাই এই করোনা মহামারিতেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা ব্র্যাক ও প্রথম আলোর এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছি।'
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, 'করোনার শুরু থেকেই সারা দেশে বিশাল কর্মীবাহিনীর ব্র্যাক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রচার, সচেতনতা তৈরি, অসহায় পরিবারে খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহায়তা প্রভৃতি কাজ করেছি আমরা। করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে সরাসরি সেবা দিয়েছি। এই জরিপ করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।'