প্রথমবারের মতো ডিআরইউ’র উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা সভা

৯৯৯

সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে  প্রথমবারের মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার।

প্রথমবার আয়োজনের বিষয়ে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের একটি কর্মসূচি ছিল। আমরা করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম এবার মুজিববর্ষ উদযাপন করবে ডিআরইউ। করোনার কারণে আমরা আর কোনও স্বাভাবিক প্রোগ্রাম তো করতে পারিনি। আজকে তাই এই আলোচনা সভাটি ছিল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এভাবে এর আগে আলোচনা হয়নি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মুজিববর্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা এটি করেছি। ’ 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে পথচলা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনও বিতর্ক করার প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তখনই বিতর্ক হয়— যখন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের লালন-পালন করা হয়। বিতর্ক তখনই হয়, যখন এই খুনিদের পুনর্বাসন করা হয়, যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই বিতর্ক থেকে যতদিন আমরা বেরিয়ে আসতে না পারবো, ততদিনই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর যেই স্বপ্ন, ৩০ লাখ শহীদদের যেই স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন এখানে বাস্তবায়ন হবে। রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের স্বপ্ন এই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা থাকবে।’

বাকশালকে ঘিরে যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা করে তাদের সমালোচনা করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাকশালকে একটি নেগেটিভ জায়গায় ফেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়, যেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বাকশালের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ একা ছিল না। তদানীন্তন যত রাজনৈতিক দল ছিল সবাই সেখানে গিয়েছিল। বাকশাল আওয়ামী লীগ বা অন্য রাজনৈতিক দলের মতো ছিল না। সেটা ছিল একটি সরকারি রাজনৈতিক দল।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা আগলে রাখতেন। আজকে আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশকে আগলে রাখার। গণমাধ্যম এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তেব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের  সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতাকে মর্যাদা দিয়েছেন। সেজন্য তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়েছেন। গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার জন্য তিনি আইন প্রণয়ন করে গেছেন।’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও গণমাধ্যমের প্রতি উদার। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে  প্রধানমন্ত্রীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সময়ের আলোর নির্বাহী সম্পাদক শাহনেওয়াজ দুলাল, ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— ডিআরইউর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব, বর্তমান ডিআরইউর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুর রহমান রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক এইচ এম আকতার, কল্যাণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম মিজান, এম মুরাদ হোসেন প্রমুখ।