রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে জানা গেছে। এসময় প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বাড়িটিতে অভিযান চালাই। বাড়িতে যেসব ভাড়াটিয়া ছিলেন তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা হোমমেড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর আমরা আমাদের অভিযান চালাই। বোম ডিসপোজাল ও সোয়াট টিম ভবনটির ভেতরে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেন। যাদের মধ্যে তিনজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি চারজনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদেরকে ডিবি অফিসে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হোসেনী দালান ও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় যে গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল এখানেও ঠিক সে ধরনের গ্রেনেড পাওয়া গেছে। তাদের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেছেন, মিরপুর ১ এর রোড-৯,ওয়ার্ড-৮, ব্লক-এ শিশু পার্কের পাশের ৩নং বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। বাড়ির মালিকের নাম আবুল হোসেন ভুইয়া। অভিযানের সময় ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছিল।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্যকে বুধবার আটক করা হয়েছিল। তার দেওয়া তথ্যমতে এ বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালানো হয় রাত ৩টা থেকে। এসময় জঙ্গিরা ভেতরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এখানে কাজ করে। তারাও প্রতিরোধে আর্ম গ্রেনেডসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। জঙ্গিরা কী পরিমাণ বিস্ফোরক ঘটিয়েছে আমরা তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না,কারণ আমরা নিচে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে একটি ও পাশের ফ্ল্যাটের বিছানা থেকে আরেকটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি ট্রাংকের ভেতরে গ্রেনেড আছে বলে আমরা ধারণা করছি। গ্রেনেডগুলো দেশীয় তৈরি। তারা চার মাস আগে চাকরি ও শিক্ষার্থী বলে বাসা ভাড়া নিয়েছেন।
বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে জঙ্গিদের কোনও নাশকতা পরিকল্পনা ছিল কিনা এমন প্রশ্নে সানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়গুলো আমাদের অবগত রয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবি এ ব্যাপারে তৎপর ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।
এদিকে পাশের বাসার ভাড়াটিয়ারা বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে তারা গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছে।
অভিযানের পূর্বে আমাদের প্রধান বিষয় ছিল বাসার অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তা। আমরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছি এরপর অভিযান চালিয়েছি।
/এআরআর /এআর /এএইচ/