পুলিশ হেফাজতে জনি নামের এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক জাহিদুর রহমান জাহিদসহ তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশসহ বাদীকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি জাহিদুর রহমান জাহিদের পক্ষে তার পরিবার দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
বুধবার ( ১৬ সেপ্টম্বর) মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ টাকা জমা দেন মামলার অন্যতম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি জাহিদুর রহমান জাহিদ।
জাহিদের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,‘আমরা আদালতের নির্দেশে ক্ষতিপূরণের দুই লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। আমরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবো।’
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জাহিদসহ (উপ-পরিদর্শক ) তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একইসঙ্গে নিহত জনির পরিবারকে ১৪ দিনের মধ্যে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— রাশেদুল ইসলাম (উপপরিদর্শক), কামরুজ্জামান মিন্টু (সহকারী উপপরিদর্শক)।
মামলায় অপর দুই আসামি পুলিশের সোর্স রাশেদ ও সুমনের সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে জনির মৃত্যুর অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি। ওইদিন আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এসআই জাহিদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় মোট ২৬ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।