কুলসুমকে পাচারকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আটক

৪৪ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে উম্মে কুলসুমকে সৌদি আরবে পাচারের অভিযোগে রিক্রুটিং এজেন্সির এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. মকবুল হোসেনসহ দুজনকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। অপরজন হলেন মকবুলের সহযোগী মো. পারভেজ। বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফকিরাপুলে ওই এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে থেকে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে অফিসটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

পলাশ কুমার বসু জানান, ২০১৯ সালের এপ্রিলে উম্মে কুলসুম এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের  মাধ্যমে সৌদি আরবে যায়। সৌদি আরবে  কর্মীপাঠানোর ন্যূনতম বয়স ২৫ হলেও উম্ম কুলসুমের  বয়স ছিল ১৫ বছরের নিচে। কিন্তু স্থানীয় দালাল ও এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের  মালিক মকবুল হোসেনের প্ররোচনায় তার বয়স ২৬ বছর দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। সৌদি আরবে গিয়ে নারী কর্মীকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও শ্রম শোষণের শিকার হওয়ায় সম্ভবনা আছে— এমন জানা সত্ত্বেও এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক এ বিষয়ে ভিকটিমকে সর্তক না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে সৌদি আরবে পাচার করে।

৫৫ভুক্তভোগী উম্মে কুলসুম সৌদি আরবে গিয়ে শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চলতি বছরের ১৭ আগস্ট  মারা যায়। তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্থানীয় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রিক্রুটিং এজেন্সি এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল তাদের প্রতি কোনও সহানুভূতি প্রদর্শন করেনি।

ফকিরাপুলের অফিস তল্লাশি করে আরও ১০-১২ জনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়াও, এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা রয়েছে। ওই মামলাগুলো বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন।