শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।
খানি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল মানববন্ধন, আলোচনা সভা, গণজমায়েত, সাইকেল র্যালি, নারী কৃষকদের সম্মাননা প্রদান, মাইম শো, গম্ভীরা সংগীত পরিবেশন, গণশুনানি ইত্যাদি। দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষক, আইনজীবী, পরিবেশবিদ, কৃষক, নারী কৃষক, কৃষিশ্রমিকসহ সব স্তরের মানুষ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্যকে জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও ২০২০ সালের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭৫তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে গবেষকরা বলছেন, করোনা মহামারির লকডাউন সময়ে দেশের প্রায় ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য সংকটে ভুগেছে।
এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, দেশের পরিবারগুলোর আয় ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। তাই দেশের সব মানুষের জীবিকা,সংস্কৃতিভেদে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য এখনই জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ভলান্টারি গাইডলাইনের আলোকে দেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা জরুরি। এই আইন প্রণীত হলে সব মানুষের খাদ্য ক্রয়ের জন্য আয়, খাদ্যের যোগান এবং সংস্কৃতিভেদে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।
খানি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালে খাদ্য অধিকার বিষয়ক আইন প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলো থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এই আইন অবিলম্বে প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।
খানি’র বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, আমাদের দেশে পুষ্টি অধিকারের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ নারীই কোনও না কোনও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় ভুগছেন। ১৯৯৭ সালে দেশের ৬০ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির ছিল, ২০১৮ সালে তা নেমে আসে ৩১ শতাংশে। তারপরও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খর্বাকৃতির শিশু জন্মের হার এখনও বাংলাদেশে বেশি। এর মূল কারণ শিশুর মায়ের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সব মানুষের খাদ্য এবং পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে।
খানি জানায়, ‘মাসব্যাপী খাদ্য অধিকার প্রচারাভিযান’ ক্যাম্পেইনের অধীনে খানি’র সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকা, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, খুলনা, গাইবান্ধা, বরগুনা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, বাগেরহাট, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, কয়রা, বরিশাল, পিরোজপুর, সিলেট, ঝিনাইদাহ, খাগড়াছড়ি ও হবিগঞ্জে এসব কর্মসূচি পালন করছে। গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি চলবে।