পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই বান্দরবান পৌরসভায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানে রাজনৈতিক সহাবস্থান স্থিতিশীল এবং প্রার্থীরা শ্রদ্ধাশীল একে অপরের প্রতি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে একসঙ্গে এবং সস্ত্রীক নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা।
বান্দরবান আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর জেলা শহরের বনরূপা পাড়ায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. জাবেদ রেজার বাবা নুরুল হকের বাড়িতে ভোট চাইতে আসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসলাম বেবীর স্ত্রী কামরুন খানরম বেবী। তাকে হাসিমুখে গ্রহণ করেন বিএনপি মেয়র প্রার্থীর পরিবার।
কামরুন খানম বেবী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা আমাকে দোয়া করেছেন। আমিও তাদের দোয়া করেছি।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মেয়র প্রার্থীর স্ত্রী হ্যাপি রেজাও মোহাম্মদ ইসলাম বেবীর বাড়িতে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে যান। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তখন সস্ত্রীক প্রচারণায় ব্যস্ত থাকায় বাড়িতে ছিলেন না। পরে তাদের দেখা হয়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান শহরের মেম্বারপাড়া এলাকার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের বাসায় নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে দুই দলের প্রার্থীর স্ত্রীরা পরষ্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ছবিও তোলেন।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী জাবেদ রেজার স্ত্রী হ্যাপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বান্দরবানের রাজনীতি ব্যতিক্রম। এটা অনেক বড় সৌভাগ্য। প্রতিদ্বন্দীদের সঙ্গে দেখা হলে মোটেও প্রতিপক্ষ বলে মনে হয় না।
২৫ ডিসেম্বর রাতে মেম্বরপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঘরোয়া সভায় উপস্থিত হন বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী গীতা রানী দে। এসময় একসঙ্গে বসেছিলেন সবাই। উপস্থিত ভোটারদের একজন হফেজ আহমেদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন ঘটনা শুধু বান্দরবানেই সম্ভব। অন্য জেলায় নয়।
বান্দরবার প্রথম শেণির পৌরসভা। এটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠত হয়। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান বিপ্লবের জনসমর্থন থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদ্বয়ের মধ্যেই।
/এইচকে/