কারও বিরুদ্ধে নেই কোনও মামলা।বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের গত পাঁচ বছরে সম্পদ ও নগদ অর্থ দুটিই বেড়েছে। তবে বিএনপির বর্তমান এই মেয়রের ২০১১ সালে ১টি মোবাইলফোন থাকলেও চলতি বছরে তার কোনও মোবাইল ফোনের উল্লেখ নেই। একই সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আ. কাইয়ুমের নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বাড়লেও কমেছে ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয়।
২০১১ সালে ও চলতি বছর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া তাদের হলফনামার বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভা হওয়ার পর প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। এবারও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লডাইয়ে আছেন মাঠে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এইচএসসি। গত নির্বাচনে তার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা থাকলেও পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয় ও ব্যয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে তার। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে নগদ ১০ হাজার টাকার এই প্রার্থী বর্তমানে ৩ লাখ ৮৯ হাজার নগদ টাকার মালিক। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় এসেছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যা ২০১১ সালে ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিন্তু কমেছে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বর্তমানে ১ লাখ টাকা যা পূর্বে ছিল ২ লাখ টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ ১৫ ভরি আগে যা ছিল চলতি বছরেও তাই। একই রয়েছে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ। নিজ নামে কৃষি জমি রয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১টি রঙ্গিন টিভি ২১ইঞ্চি, ফ্যান ১টি, মোবাইলফোন সেট ১টি। কিন্তু চলতি বছরের হলফ নামায় উল্লেখ নেই তার কোনও মোবাইল ফোনের। আসবাবপত্রে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আগে যা ছিল একই রয়েছে, কাঠের খাট ১টি, সুকেস ১টি, ড্রেসিং টেবিল ১টি, চেয়ার ২০টি, টেবিল ৩টি। তিনি তার ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচনি খরচ চালাবেন।
হোসেনপুর পৌরসভা হওয়ার পর প্রথমবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আ. কাইয়ুম এবারও দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো লড়াইয়ে আছেন। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। গত নির্বাচনে তার হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা থাকলেও পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয় ও ব্যয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে তার। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে নগদ ২০ হাজার টাকার এই প্রার্থী বর্তমানে ১ লাখ নগদ টাকার মালিক। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় এবার কমেছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। যা ২০১১ সালে ছিল ৩ লাখ টাকা। ২০১১ সালের হলফ নামায় দোকান ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয় ১ লাখ, বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ ৫০ হাজার দেখালেও চলতি বছরে এর কোনওটির উল্লেখ নেই। কমেছে স্বর্ণালংকারও আগে ছিল ৫ ভরি চলতি বছরে উল্লেখ রয়েছে ২ ভরির। কিন্তু ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি যা আগে ছিল ৩ লাখ টাকা চলতি বছরে এর পরিমাণ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র যা ছিল তাই। বেড়েছে শুধু একটি মোটরসাইকেল। তবে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে ২০১১ সালে তার মোবাইলফোন না থাকলেও চলতি বছরে ১টির কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০১১ সালে স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে কোনও কৃষি জমি না থাকলেও যৌথ মালিকানায় ছিল ১০ একর। যৌথ মালিকানায় দালান ২টি ও নিজ নামে ২টি দোকান। চলতি বছরে এর কোনওটির উল্লেখ না থাকলেও নিজ নামে রয়েছে ২৫.৫০ শতাংশ অকৃষি জমি। তিনি তার ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচন করবেন।
অন্যদিকে, হোসেনপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে আছেন মো. সৈয়দ হোসেন। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ধান, চাল ও ভ’সা মাল থেকে তার বার্ষিক আয় ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৮ টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তার হাতে নগদ অর্থ আছে ১ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা। স্বর্ণ ২ ভরি। ট্রাক্টর ১টি। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব পত্র ছাড়াও তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে কৃষি জমি ১০০ শতাংশ। অকৃষি জমি ২৭ শতাংশ। বাড়ি/ এপার্টমেন্ট হাফ বিল্ডিং ১টি। তিনি নির্বাচন খাতে তার ব্যবসার আয় থেকে সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা।
হোসেনপুর পৌরসভা আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আব্দুল কাদিরও মাঠে লডাইয়ে আছেন। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা হতে তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিএ। তার হাতে নগদ ২ লাখ টাকা থাকলেও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থে রয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব পত্র ছাড়াও তার উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত স্বর্ণ রয়েছে ২৫ ভরি। নিজ নামে বা যৌথ নামে তার কোনও কৃষি বা অকৃষি জমি না থাকলেও শুধু যৌথ নামে রয়েছে তার একটি হাফবিল্ডিং ঘর। তিনি নির্বাচন খাতে তার ব্যবসার আয় থেকে ব্যয় করবেন বলে জানান।
অপরদিকে, হোসেনপুর পৌরসভা বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার আলী মৃধা। তিনিও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা ও কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি একজন স্বশিক্ষিত। তার হাতে নগদ অর্থ আছে ১ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণও ১ লাখ টাকা। রয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার ১টি মোটরসাইকেল। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র ছাড়াও তার রয়েছে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে কৃষি জমি ১ একর। অকৃষি জমি ২০ শতাংশ। বাড়ি হাফ বিল্ডিং একটি। তিনিও নির্বাচন খাতে তার ব্যবসার আয় থেকে ব্যয় ধরেছেন। এছাড়া তার সোনালী ব্যাংক হোসেনপুর শাখায় এসএমই ঋণ রয়েছে ৩ লাখ টাকা।
পাঁচ বছরের ব্যবধানে সম্পদের গড়মিলের কারণ হিসেবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসার লাভ ও লোকসানের কারণে এর পার্থক্য হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আ. কাইয়ুম, ২ বছর ২ রকমের হলফ নামার বিষয়ে বলেন, আগের হিসেবের কথা মনে নেই। টাকা ও সম্পদের পরিমাণ বাড়তে-কমতে পারেই। কারণ আমাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির দাম আগের ছেয়ে অনেক বেড়েছে। টাকা দরকার হলে জমি বিক্রি করি। ব্যাংকে জমা রাখি। এজন্যই এ পরিবর্তন।
তবে নাম না প্রকাশ করার সূত্রে কয়েকজন পৌরবাসী বলেন, হলফনামায় দেওয়া তাদের তথ্যের অনেক গড়মিল রয়েছে। নামে-বেনামে তাদের অনেক সম্পদ রয়েছে। যা তারা হলফ নামায় উল্লেখ করেননি।
/এএইচ/