চিকিৎসাসেবার খরচ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে টানা ৪৫তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো শ্রমিকেরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
রবিবার (১ অক্টোবর) সকালে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী শ্রমিকরা জানান, তারা টানা ৪৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে তাদের কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। এসময় তারা দ্রুত আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে শ্রমিক নেত্রী জরিনা বেগম বলেন, ‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা কিছু দেশি ও বিদেশি অনুদান ছাড়া দেশীয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমরা কোনও ক্ষতিপূরণ পাইনি। আমরা নিহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের পরিবার বছরের পর বছর মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্ষতিপূরণসহ তিন দফা দাবি আদায়ে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে আমাদের অবস্থা ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তিন জন ডাক্তার আমাদেরকে দেখে গেছেন। তারা আমাদের কাগজপত্র দেখে মনে করছেন, আমাদের দ্রুত চিকিৎসা না হলে কারও কারও অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমরা স্থায়ীভাবে পঙ্গত্ববরণ করার আশঙ্কা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণে আমরা আহত ও পঙ্গু হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছি। আমরা এখনও বেকার হয়ে আছি। আলেয়া নামে একজন শ্রমিক এখানে আছেন। তার দ্রুত অপারেশন না করালে তার দুটি পা প্যারালাইজড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেহানা, আলেয়া, বিলকিস, জাবেদা, সালমা, জরিনা, নাছিমা, আসাদুজ্জামান ও শাহীনসহ আরও অনেকের টাকার অভাবে চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। এই শ্রমিকদের জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। অথচ সরকার নিজেদের শ্রমিকবান্দব দাবি করলেও অতীতের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে চলেছে। এসব দাবিতে আমরা বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরে পেশ করেছি।’
কর্মসূচিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রতন বলেন, ‘১২৫ জন নিহত হয়েছেন। ৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা এটা আশা করতে পারি, এ দেশের সব চেয়ে বড় শিল্প গার্মেন্ট। সেই তাজরিনের মালিক দেলোয়ারের অবহেলার কারণেই এমন ঘনটা ঘটেছে। এর পর রানা প্লাজার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এক হাজার ১৩০ জন প্রাণ হারিয়েছে। সেই রানা প্লাজার পর সরকারের মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছিলেন, এর জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার তরফে বাংলাদেশ সরকারকে ১২১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার থেকে শ্রমিকদের জন্য মাত্র ২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।’