বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে ইলিশ আহরণের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলো। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে সাগর ও নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরার কার্যক্রম শুরু করবে জেলেরা। তবে যারা নিষেধাজ্ঞার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, সারা দেশে গত ২২ দিনে নৌ পুলিশের ওপর অন্তত আটটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নৌ পুলিশের পুলিশ সুপারসহ (এসপি) অন্তত ডজনখানেক নৌ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নৌ পুলিশের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাটি হয় চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে। ২৫ অক্টোবর এখানে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে এসে জেলেদের হামলার শিকার হয়ে অন্তত ২৫ নৌ পুলিশ সদস্য আহত হন। মেঘনা নদীর লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ হামলার ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এছাড়াও বরিশাল, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জেও নৌ পুলিশ সদস্যরা আহত হন। এসব হামলার ঘটনায় নৌ পুলিশ বাদী হয়ে আটটি মামলা করেছে। মামলায় ৮৯ জন এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত অন্তত ৮৮৫ আসামি রয়েছে। এজাহার নামীয় ৮৯ আসামির মধ্যে ১০জনকে গ্রেফতার করতে পারলেও পলাতক রয়েছে ৭৯ জন। যাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে নৌ ও থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করলে নৌ পুলিশ এসব জেলেদের বাধা দেয়। তখন তারা সংঘটিত হয়ে নৌ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরে তিনটি। এছাড়া বরিশালে দুটি এবং রাজশাহী অঞ্চল, ঢাকা অঞ্চল ও কিশোরগঞ্জে একটি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে থানা নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদফতর সম্মিলিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। দেশের ৩৬টি জেলার ১৫২ উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে চাঁদপুর কান্ট্রি ফিসিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু মৌসুমি জেলে, আড়তদার নিষেধাজ্ঞার পরও মাছ শিকার করছে। তারাই এই হামলাকারী। যারা নিয়মিত জেলে বা আড়তদার তারা কেউ নদীতে যায়নি।’
এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে কোনওভাবেই মা ইলিশ আহরণ করতে দেওয়া হয়নি। মা ইলিশ থাকতে পারে এমন নদীতেও জেলেদের নামতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপি’তে ইলিশের অবদান এক শতাংশেরও বেশি। সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন প্রদান করেছে।