গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় ‘নিহতরা’ বেঁচে আছেন!

গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় রবিবার গভীর রাতে নিহত দু’জনের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। র‌্যাব নিহত দুইজনের যে নাম-পরিচয় জানিয়েছে সেই ব্যক্তিরা এখনও বেঁচে আছেন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে, পুলিশ এখনও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেনি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যুগীতলা এলাকায় রবিবার গভীর রাতে র‌্যাবের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে দুইজন নিহত হন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিহতরা হচ্ছেন মাহবুব ও মিনহাজুল। গাজীপুরের পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন এই নামে দুইজন কারাগার থেকে সেদিনই (রবিবার) ছাড়া পেয়েছেন।

বাংলা-ট্রিবিউনের-সঙ্গে-আলাপরত--মাহবুব

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে তাদের মধ্যে একজন মাহবুবকে (২৮) তার পূর্ব এনায়েতপুরের বাড়িতে পাওয়া গেছে। সোমবার তার সঙ্গে মুখোমুখি কথাও হয়েছে এই প্রতিনিধির। তার সঙ্গে রবিবার মিনহাজুল নামের যে যুবক জামিন পেয়েছেন তিনিও তার বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কামারকান্দিতে ওইদিনই চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন মাহবুব। মিনহাজুলের স্বজনরাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের পূর্ব এনায়েতপুর গ্রামের মাহবুবকে তার বাড়িতেই পাওয়া যায়। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, ২৭ ডিসেম্বর রবিবার বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার কামারকান্দি গ্রামের মিনহাজও তার সঙ্গে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পায়। তারা ১০ বছর ৪ মাস সাজা ভোগ করেছে।

মাহবুব আরও জানান, পুলিশ ‘অন্যায়ভাবে’ তাকে জঙ্গি ও নাশতকার মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করে ২০০৫ সালে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। গ্রেফতারের সময় তিনি হাতিমারা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হলেও বরাবরই নাশকতামূলক কাজ ও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

মাহবুব বলেন, কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির পর র‌্যাব সদর দফতরের সদস্যরা আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে আর সম্পৃক্ত না হতে বলে। আরও বলে, মাসে একবার র‌্যাব কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হবে। পালিয়ে গেলে ধরে নেবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে আসলেই আমার সম্পৃক্ততা আছে। পরে আমাকে চাচা জালাল উদ্দিন ও শামসুল হকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডারও স্বীকার করেছেন, ২৭ ডিসেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে সাজাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া মাহবুব ও মিনহাজকে তারা আটক করে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের লোকদের কাছে তাদের তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় মাহবুবের বাবা আলাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাজা ভোগ করে আমার ছেলে ফিরে এসেছে। দশ বছর ছেলেকে না পেয়ে তার মা এখনও অপ্রকৃতস্থ।

এদিকে নিহতদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় তাদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে চেয়ে আছেন গোয়েন্দারা। তবে সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাদের ময়না তদন্ত শেষ হয়নি।  গাজীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার আব্দুস ছালাম জানান, র‌্যাবের গুলিতে নিহতদের ময়না তদন্ত এখনও চলছে।  

/এইচকে/টিএন/