সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক শক্ত করার উদ্যোগ

বাংলাদেশ-সৌদি আরবসৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ককে আরও বেগবান করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অক্টোবরে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও নভেম্বরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সৌদি আরব সফর করেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন এবং বুধবার সৌদি শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হবে। এর পরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রিয়াদে যাচ্ছেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু যাচ্ছেন জানুয়ারির শেষের দিকে।
পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে এবং এ সম্পর্ক আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে একটি চুক্তি হয় এবং বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্যই প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর এ সফর।

বাংলাদেশ থেকে দেশটি গৃহকর্মী নিচ্ছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যাতে লোক নেয় সেসব বিষয়ে আলোচনা করবেন মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে সচিব আরও বলেন, এটি রাজনৈতিক সম্পর্ককেও আরও মজবুত করবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটি একটি দ্বিপক্ষীয় সফর এবং দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় এ সফরে প্রাধান্য পাবে।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, শ্রমিকদের উন্নত কর্ম পরিবেশ ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা হবে।

এদিকে জানা গেছে, সৌদি নেতৃত্বে গঠিত সহিংসতা বিরোধী জোট একটি সেন্টার স্থাপন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সৌদি আরব এ জোট সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানায়নি। তিনি বলেন ‘আমরা আশা করছি দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে সৌদি আরব এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে।’

তিনি বলেন, ইয়েমেন বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থানকে সমর্থন এবং সৌদি নেতৃত্বে গঠিত সহিংসতাবিরোধী জোটে যোগদানের ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি সম্পর্ক এখন অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।

সৌদি বেসরকারি খাত বাংলাদেশে বিনিয়োগে করতে আগ্রহী এবং এদের কয়েকজন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন।

সৌদি বেসরকারি খাত তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এ ছাড়া তারা আইসিটি পার্ক ও সৌদি অর্থনৈতিক জোন নিয়েও আগ্রহী।

পাঁচ বছর আগে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি ডলারে।

 

/এসএসজেড/এফএ/আপ-এনএস/