সোমবার (৯ নভেম্বর) কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিদেশ ফেরত অভিবাসি শ্রমিকদের অর্থনৈতিক, পুণ:একত্রিকরণ এবং নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি ও বঞ্চনায় টিকে থাকার সংগ্রামী ও অনিশ্চিত জীবনযাত্রা শীর্ষক এক ওয়েবিনারে কর্মজীবী নারী-এর এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন কর্মজীবী নারীর পরিচালক রাহেলা রাব্বানী।
গবেষণাটি করা হয়েছে তিনটি জেলা ঢাকা, ময়মনসিংহ ও নরসিংদী এর ছয়টি উপজেলা, একটি সিটি করপোরেশন, ২১টি ইউনিয়ন ও ৫১টি গ্রামে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা মোট ৫৫টি পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণায় বলা হয়, অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী ৫৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছেন।
গবেষণা থেকে আরও জানা যায়, করোনা পূর্ববর্তী মাসিক আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন কোনও পরিবার ছিল না যাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ৪৬ শতাংশ পরিবারে একজন উপার্জন করতো। করোনা পরবর্তী মাসিক আয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে উপার্জন বা আয় নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ৩৯ শতাংশ। ৪৮ শতাংশ পরিবারে একজন উপার্জনক্ষম সদস্য। এই পরিবারগুলোর ৩৬ ভাগেরই করোনা পূর্ববর্তী সময়ে একজন করে উপার্জনক্ষম সদস্য ছিল। ফলে কোভিড-১৯ এর প্রভাব পড়তে শুরু করলে ওই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যটি কাজ হারিয়ে ফেললে পরিবারটি উপার্জন শূণ্য হয়ে পড়ে। ওয়েবিনারে আলোচকরা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।
কর্মজীবী নারীর নির্বাহি পরিচালক সানজিদা সুলতানার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চালনায় সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড স্টাডিজের সভাপতি ইশরাত জাহান, অভিবাসি কর্মী উন্নয়ণ প্রোগ্রামের সভাপতি শাকিরুল ইসলাম, মাইগ্রেশন অ্যানালিস্ট আমিনুল হক তুষার, ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর জাহিদ আনোয়ার, জনশক্তি-কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত আলীসহ আরও অনেকে।