গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য বদিউল আলমের বিরুদ্ধে মামলা

দুদক

প্লট জালিয়াতির অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য বদিউল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক-এর প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য বদিউল আলম মিরপুরের ৮ নং সেকশনের খ ব্লকের তিন নম্বর সড়কের ২৪ নাম্বার প্লটের দুই কাঠার একটি প্লটের বিকল্প প্লট হিসেবে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের বি ব্লকের ১১/১ নম্বর প্লটের ২.৬৬ কাঠার প্লটটি অপরাধমূলক অসদাচারণ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দখলপূর্বক স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে ১৯৪৭ সালের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, দ-বিধির ৪০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

ঘটনার বিবরণে আরও বলা হয়, গৃহসংস্থান অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর দফতর থেকে জনৈক ফজলুল হক চৌধুরী মিরপুর হাউজিং এস্টেটের সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকায় স্মারক নং ৩৩৬০, তাং ৩০/০৬/১৯৯৪ মূলে মিরপুর সেকশন-৮, ব্লক-বি, রোড নং-৩, প্লট নং-২৪, জমির পরিমাণ ২ কাঠা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ফজলুল হক চৌধুরী ৪ কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করেন। উক্ত টাকা পরিশোধের পর ফজলুল হক চৌধুরী গত ০৩/০১/১৯৯৬ তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। ফজলুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ (১) নুর জাহান বেগম (স্ত্রী) (২) চৌধুরী আজিজুল হক (ছেলে) (৩) চৌধুরী আমিনুল হক (ছেলে) (৪) চৌধুরী মোজাম্মেল হক (ছেলে) (৫) হোসনেয়ারা জামান (মেয়ে) (৬) ফাতেমা বেগম (মেয়ে) ও (৭) পারভীন আক্তার চৌধুরী (মেয়ে) ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত প্লটের মালিক হন। ফজলুল হক চৌধুরীর নামে প্লটটির দখল বুঝিয়ে না দেওয়ায় তার ওয়ারিশগণ তাদের নামে অন্য আরেকটি প্লট বরাদ্দ প্রদানের জন্য গত ১৯/০৫/২০০৫ তারিখ চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবর আবেদন করেন। আসামি বদিউল আলম অত্যন্ত সুকৌশলে ও পর্দার অন্তরালে থেকে প্লটটি হাতিয়ে নেওয়ার মানসিকতায় মো. মাসুদ করিম (আমমোক্তার গ্রহীতা) তার আপন মেঝ ভগ্নিপতির সঙ্গে ফজলুল হক চৌধুরীর ওয়ারিশদের পরিচয় করিয়ে দেন। আসামি মো. বদিউল আলমের অদৃশ্য ইশারায় এই জমির রণাবেণ ও যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মিরপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের আম মোক্তার দলিল মূলে মো. মাসুম করিমকে আমমোক্তার নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে গত ৩১/১০/২০০৭ তারিখের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৪৮ তম বোর্ডসভায় ক্রমিক ৭ এর আলোচ্য বিষয়ে সেকশন নং ০৮, ব্লক নং-খ, রোড নং-০৩, প্লট নং -২৪ জমির পরিমাণ ০২ কাঠার প্লটের পরিবর্তে বিকল্প প্লট হিসেবে সেকশন ৬, প্লট নং ১১/১, এভেনিউ নং-০৫, ব্লক-বি, জমির পরিমাণ ২.৬৬ কাঠার প্লট (২ কাঠার পরিবর্তে ২.৬৬ কাঠা) বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দুদকের অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ফজলুল হক চৌধুরীর ওয়ারিশদের কর্তৃক নিযুক্ত আমমোক্তার মো. মাসুম করিম (বদিউল আলমের আপন মেঝ ভগ্নিপতি) পুনঃবরাদ্দ প্রাপ্ত সেকশন নং ০৮, ব্লক নং-খ, রোড নং-০৩, প্লট নং -২৪ জমির পরিমাণ ০২ কাঠার প্লটের বিকল্প প্লট হিসেবে সেকশন ৬, প্লট নং ১১/১, অ্যাভিনিউ নং-০৫, ব্লক-বি, জমির পরিমাণ ২.৬৬ কাঠার প্লট সাবেক সদস্য বদিউল আলমের কাছে জমির ওপর নির্মিত সেমিপাকার বাড়িসহ ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আসামি নিজেই প্লটটির মালিক হন। তিনি ক্রয়কৃত জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য প্লটটি খান প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভলপারকে প্রদান করেন। খান প্রপার্টিজ শর্ত মোতাবেক ৬টি ফ্লাট আসামিকে প্রদান করেন। আসামি ফ্লাটগুলো বুঝে নিয়ে বিক্রি করেন। অনুসন্ধানকালে আসামি বদিউল আলমের সঙ্গে মাসুদ করিমের (আমমোক্তার গ্রহীতা) আপন মেঝ ভগ্নিপতির সম্পর্ক পাওয়া যায়। তিনি ১৩/০৩/২০০৫ তারিখ থেকে ২৬/১২/২০০৭ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (প্রশাসন ও অর্থ) এবং সদস্য (ভূমি) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আসামি সদস্য (ভূমি) হিসেবে বিভিন্ন প্লটের জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ২.৬৬ কাঠার প্লটটি অপরাধমূলক অসদাচারণ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দখলপূর্বক স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেন।