ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার নিরাপত্তাকর্মী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নির্বাচন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক নতুন এ দিন ধার্য করেন।’
এর আগে শনিবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ৮ নভেম্বর অস্ত্র ও মাদক মামলায় তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। মামলার আসামিরা হলেন, ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও দুই তিন জন।
ওয়াসিফ আহমেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, ২৫ অক্টোবর রাতে তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিফ আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে চলে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো। এই বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’
মামলা দায়েরের পর ওইদিন দুপুরে পুরান ঢাকায় চকবাজারের হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে হেফাজতে নেয় তারা। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দু'জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন।
পরদিন ২৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে র্যাব।