বিএপি তাদের এক জরুরি সভাতে এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের গ্রেফতারের প্রতিবাদস্বরূপ আজ ও আগামীকাল তাদের ব্যক্তিগত চেম্বার ও অনলাইনে দেওয়া স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত এ দুইটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্টার ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যার আসামী বানিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ এর ভালো তদন্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। ডা. মামুনতো সেখানে ( মাইন্ড এইড) ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা হত্যা মামলার আসামী তিনি কী করে হলেন এইভাবে।
রিমান্ডে থাকা মাইন্ড এইডের কর্মচারিরা জানিয়েছেন, ডা. মামুন ‘রোগী পাঠালাম’ বলে ফোনে বলেছেন জানালে অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, নিহত এএসপির ভাই এবং বোন দুজনই চিকিৎসক। তারাই চেয়েছেন তাকে এ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে। এরা সবাই চিকিৎসক হওয়াতে তাদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তখন তাদের মধ্যে কয়েকটি ক্লিনিকের নামও বলা হয় এবং রোগীর স্বজনরাই এ মাইন্ড এইড হাসপাতাল ‘পছন্দ’ করেছে। তারাই বলেছেন, এ হাসপাতালে ভর্তি করাবো এবং ডা. মামুনকে বলেন সেখানে বলে দিতে। এই হচ্ছে হিসাব-কিন্তু এরজন্য তিনি অ্যারেস্ট হবেন, হত্যা মামলার আসামী হবেন, দুইদিনের রিমান্ডে যাবেন। এটা মানা যায় না।
অধ্যাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি প্র্যাক্টিস করি স্কয়ারে, আমার কাছে কেউ এমন পরামর্শ চাইলে আমিওতো স্কয়ারের নাম বলতাম।
‘এর জন্য আমি কি হত্যা মামলার আসামী হয়ে যাবো’ বলে প্রশ্ন করেন তিনি। ডা. মামুন চিকিৎসাও দেয়নি, মারের মধ্যেও থাকেনি। এমন কী সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হলে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুমতি নিতে হয়, তাদেরকে জানাতে হয়। অথচ ডা. মামুনকে গ্রেফতারে এসবের কিছুই করা হয়নি।
এদিকে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি)র সভাপতি অধ্যাপক ডা. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ভিডিওতে দেখানো ছবিতে সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের যেভাবে মৃত্যু হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, আনিসুল করিমের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সেটা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে এবং দোষীরা যথাযথ শাস্তি পাবে।
এদিকে, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ এস পি আনিসুল করিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, গত নয় নভেম্বর আনিসুল করিমকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সহকর্মী সহকারে চিকিৎসার জন্য আসেন। জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান শেষে অবজারভেশনে রাখেন এবং পরবর্তীতে আবাসিক সাইক্রিয়াটিক (সহকারী অধ্যাপক) এর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা এ হাসপাতাল ভর্তি না করে নিজ দায়িত্বে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকদের জাতীয় এই সংগঠনের সভাপতি এবং মহাসচিব তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আনিসুল করিম মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে মারা যাননি এবং এ প্রতিষ্ঠানের কোন চিকিৎসকের কোনও সংশ্লিষ্টতাও নেই।
ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত, অযৌক্তিক, অন্যায় ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তারা জানান, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে একজন সরকারি চিকিৎসক কর্মকর্তাকে এভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ায় দেশের সকল চিকিৎসককে সংক্ষুব্ধ করেছে।
আরও পড়ুন- এএসপি আনিসুল হত্যা মামলা: রোগীপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কমিশন নিতেন ডা. মামুন