স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের নির্বাচনে আছে ব্যতিক্রমের ছড়াছড়ি। আর এসব অন্যরকম বিষয়ই এবারের পৌর নির্বাচনে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।
দলীয় প্রতীক
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তো নয়ই, এর আগেও কখনও স্থানীয় সরকারের কোনও পর্যায়ে দলীয় প্রতীক বা মনোনয়নে নির্বাচন হতে দেখা যায়নি।
ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম
দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে এবার মেয়র পদের ব্যালট পেপারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীদের নামও থাকবে। যার কারণে কমিশনকে ২৩৪টি পৌরসভার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যালট ছাপাতে হয়েছে। যেটা কমিশনের জন্য ছিল বাড়তি চাপ। এর আগে মেয়র পদে নির্দিষ্ট কিছু প্রতীক (সাধারণত ১২টি) রেখে প্রায় সকল পৌরসভার জন্য অভিন্ন ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল। তবে, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য আগের মত নির্দিষ্ট প্রতীক রেখে ব্যালট ছাপনো হয়েছে।
দাঁড়িপাল্লা নেই
উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় এবারের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলটি। বিএনপির অন্যতম শরিক জোটবদ্ধ হয়ে এ দলটি প্রথমে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে এমনটা শোনা গেলেও পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এ দলের দুই ডজন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছে।
কঠোর ইসি
এবারের নির্বাচনে আলোচনায় ছিল কমিশনের কঠোর আচরণও। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গত ৪ বছরে ‘বিতর্কিত’ বর্তমান কমিশন পৌরসভা নির্বাচনে কোমর বেঁধে বসেছে। নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ইস্যুতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি গত ৪ বছর কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে অভিযুক্তকারী রাজনৈতিক দল বিএনপিও কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ইসিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলল ক্ষমতাসীন দল!
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযুক্ত করল। ইসির বিভিন্ন পদক্ষেপকে পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির মিথ্যা অভিযোগ আমলে নিয়ে কমিশন পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছে। এমনও বলেছে যে, কমিশন বিএনপির প্রতি সদয় ও আওয়ামী লীগের প্রতি নির্দয় আচরণ করেছে।
তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী
এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়ারা প্রার্থী হয়েছেন। সাতক্ষীরা ও যশোর থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দুই হিজড়া। সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়ছেন দিতি। আর যশোরের বাঘারপাড়ায় পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সুমি। নির্বাচনে জিতে তারা হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকদের অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মা বনাম ছেলে ও জামাই বনাম শ্বশুর
পৌরসভার ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন মা আর ছেলে। দু’জন একই পদে না হলেও একই পৌরসভায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মা জুলেখা খাতুন সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদে আর ছেলে দেলোয়ার হোসেন রিপন মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। মা চেয়েছিলেন তিনি লড়াইতে থেকে যাবেন আর ছেলে সরে দাঁড়াবে। অপরদিকে ছেলের প্রত্যাশা ছিল ঠিক বিপরীত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা দু’জনই অনড় থাকলেন সিদ্ধান্তে।
মাঠে আছেন জামাই শ্বশুরও। সান্তাহার পৌরসভার বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন রাশেদুল ইসলাম রাজা। দুজন ভিন্ন দলের প্রার্থী হলেও তাদের রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক। তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু হলেন রাশেদুল ইসলাম রাজার মামা শ্বশুর।
/এফএ/