আজকের বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এদেশে যে কোনও মূল্যে বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলনীতি যুক্ত করে মূলত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর করে গেছেন।’
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) জুম প্ল্যাটফর্মে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প আয়োজিত ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক গোপালগঞ্জ জেলার আন্তঃধর্মীয় কর্মশালায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরূল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল্লাহ আল শাহিন, গোপালগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে যে দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যত বেশি নিরাপদ ও ভালো অবস্থায় আছে, সে দেশকে ততটা সভ্য ও উন্নত দেশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর কল্যাণ ও নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আমরা একটি সভ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্ম,বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় এক শান্তিপ্রিয় দেশ। দেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন, বিধি-বিধান স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে প্রতিপালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মানুষ ধর্মভীরু বা ধর্মের প্রতি সংবেদনশীল। জনগণের ধর্মের প্রতি এই আবেগ-অনুভূতিকে ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি অপশক্তির মদদে গোষ্ঠীবিশেষ দেশকে নিয়ে সর্বদা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এদের বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে, শান্তির বার্তা শোনায়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিষয়টি কোনও ধর্মই সমর্থন করে না। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। প্রত্যেক ধর্মের অনুসারির কাছে তার ধর্ম শ্রেষ্ঠ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র বিষয়। এছাড়া প্রতিটি ধর্মের মূল বিষয়গুলোতে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। সে সাদৃশ্যগুলোকে অবলম্বন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি ঘৃন্য বিষয়। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনও স্থান নেই। সকলের সহযোগিতায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করা হবে। এক্ষত্রে ধর্মীয় নেতারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী কথা বললে সমাজে তার ইতিবাচক সুফল পাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকদের পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে হবে। পবিবারকে সময় দিতে হবে। তাদের চলাফেরার প্রতি নজর দিতে হবে। তাহলে সন্তানরা জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না।’