‘দুর্ঘটনা-চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে পরিবহন সেক্টরের ঐতিহ্য ফিরবে না’

২২দুর্ঘটনা ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে পরিবহন সেক্টরের ঐতিহ্য ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি শ্রমিক ও মালিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পরিবহন মালিকদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এজন্য আমরা কমিটি গঠন করেছি। যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরি পরিবহন মালিকদের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘দুর্ঘটনা এবং চাঁদা— এই দুটি যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে পরিবহন মালিকদের ঐতিহ্য ফিরবে না। পরিবহন মালিকদের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’

সংগঠন পরিচালনায় চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শাজাহান খানের নেতৃত্বে বসে  সারা দেশে চাঁদার পরিমাণ কী হওয়া উচিত, সেটা  নির্ধারণ করেছি। সীমিত আকারে সংগঠন পরিচালনার জন্য একটা নির্দেশিকা আপনাদের হাতে হাতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আপনারা দেখবেন, শুধু সংগঠন পরিচালনা করার জন্য একটা পরিচালনা ব্যয় উত্তোলন করতে পারবেন। সেটা নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি সাহেবের সঙ্গেও একাধিক বার বৈঠক করেছি। আমরা নিজেরা ৬-৭টা বৈঠক করে  চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যৌথভাবে একটা নির্দেশিকা তৈরি করেছি। ট্রাক এবং বাসে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।’ সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনাও রোধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ট্রাক মালিকদের একটা অভ্যাস আছে। অনেক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, চালকদের সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। অনেক সময় দেখা যায়, ওস্তাদ পাশে বসে আছে, হেলপার গাড়ি চালাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা কিন্তু দেখা যায়। এ ধরনের ঘটনা যাতে না হয়। আমি ট্রাক মালিকদের বলছি, আপনারা আপনাদের চালকদের সঙ্গে বসবেন। কী করলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করবেন। দুর্ঘটনার কারণগুলো সম্পর্কে যদি আপনারা চালকদের অবহিত না করেন, তাহলে তো দুর্ঘনা বেড়েই চলতে থাকবে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তম আলী খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী খান।