আসামির আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম। আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মজনু মোল্লা।
আদালত তার আদেশে বলেছেন, বিদ্যমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের মামলা আপসের সুযোগ নেই। তাই আপসের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো। এছাড়া উচ্চ আদালতে জামিন আবেদনের সঙ্গে বাদীর দাখিল করা অঙ্গীকারনামার সত্যতা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সারুটিয়ায় ভাড়া বাসায় রাত ৮টার দিকে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাসা পরিবর্তনের সময় আমার স্বামীকে এক হাজার টাকা ধার দেয় আসামি। সেই টাকা নেওয়ার জন্য আসামি বিভিন্ন সময়ে বাসায় আসতো। স্বামী বাসায় না থাকার সুযোগে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান। এ অবস্থায় গত ৮ ডিসেম্বর আসামির সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় আপস করে অঙ্গীকারনামা দেন বাদী। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আলী হোসেন পাওনা এক হাজার টাকার জন্য ভাড়া বাসায় এলে আমার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়, যার সূত্র ধরে তার বিরুদ্ধে স্বামীর কথায় বাধ্য হয়ে মিথ্যা মামলা করি। পরে স্থানীয় মাতব্বর, ব্যক্তিবর্গ এবং আইনজীবীর পরামর্শে মামলাটি আপস মীমাংসা করি। এই আপসের কারণে আসামি পক্ষ আমাকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে। আসামির বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই। অঙ্গীকারনামামূলে মামলাটি নিষ্পত্তি হলে আমার কোনও আপত্তি থাকবে না।’