বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান এ তথ্য জানান।
প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. রকিবুল হাসান (২৫), সাইফুরসের ইংরেজি শিক্ষক রাশেদুজ্জামান সজীব (৩৬), হাছান মাহমুদ (২২), মানিক কুমার প্রামাণিক (৩৮), মো. শফিকুল ইসলাম (৩০),রিপন কুমার (২৬) ও নাফিউল ইসলাম তাহসিন (১৮)।
অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘পরীক্ষায় জালিয়াতি করা চক্রের সদস্যরা তিনটি ধাপে কাজ করতো। প্রথমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে বের করে। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধানের জন্য ভালো মানের ছাত্রদের খুঁজতো। আর তৃতীয়ত, যে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী থাকবে, সে কেন্দ্রকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতো।’
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নাফিউল ইসলাম তাহসিনকে মোবাইলসহ গ্রেফতার করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তেজগাঁ থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করে। তথ্য পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান মাহমুদ ও সাইফুরসের ইংরেজি শিক্ষক রাশেদুজ্জামান সজীবকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বোপরি রকিবুল হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিক কুমার প্রমাণিক, শাফিকুল ইসলাম ও রিপন কুমারকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়।’
রকিবুল হাসান সম্পর্কে অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘ভর্তি ও সরকারি ব্যাংকের চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে বিলাসী জীবন যাপন করছেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। নামে-বেনামে তার আছে অবৈধ সম্পদ।’