পি কে হালদারের আত্মীয় শঙ্খ বেপারী রিমান্ডে

দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) আত্মীয় শঙ্খ বেপারীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি শঙ্খ বেপারীকে তিন  দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ আদেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে শঙ্খ বেপারী পি কে হালদারের সহযোগী। তার মাধ্যমে পি কে হালদার তার অবৈধ অর্থ বিভিন্ন জায়গায় নিয়েছেন। এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শঙ্খ বেপারী পি কে হালদারের সম্পদ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দিকে নিয়ে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার দখলে ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। যেটা পি কে হালদারের অর্থে ক্রয় করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পি কে হাওলাদের অর্জিত অর্থ এখনও তার কাছে আছে।’

দুদক সচিব আরও বলেন, ‘পি কে হালদারকে গ্রেফতার করার জন্য আগেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে সমন জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্টের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।’

এদিকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন এ আবেদন করেন।

এর আগে অর্থপাচারে পি কে হালদেরকে সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শঙ্খ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১৫শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।