অনলাইন ব্যাংকিং চালু হলে ভোগান্তি কমবে: টিপু মুনশি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু হলে মানুষের সময় বাঁচবে, ঘরে বসে তারা সেবা পাবেন এবং তাদের ভোগান্তি কমবে। এতে ‘ইজ ডুইং বিজনেস’ অনেকখানি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি। করোনাকালে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে অনেক কিছু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভীষণ রকম উন্নতি হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের। আমরা কখনও চিন্তা করিনি বাড়িতে বসে অনলাইনে পেঁয়াজ কিনতে পারবো। এটা শুভ লক্ষণ। করোনায় আমাদের এই সুযোগ  তৈরি হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব কথা বলেন।

এ সময় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহক ভোগান্তি কমিয়ে আনতে ও বাণিজ্যিক কাজ সহজ করতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে সোনালী ব্যাংক এবং আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর (সিসিআইঅ্যান্ডই)। একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-পেমেন্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) থেকে এ সেবা চালু হলো। বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষরকালে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও আতাউর রহমান প্রধান এবং আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের প্রধান নিয়ন্ত্রক সোলেমান খান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ই-পেমেন্ট চালুর কারণে গ্রাহকরা সনাতন ধারার ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়াল পেমেন্টের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। ফলে তাদের সময়, যাতায়াত ও খরচ সাশ্রয় হবে। ঘরে বসেই এই পেমেন্ট করা যাবে। অপরদিকে সিসিআইঅ্যান্ডই-এর কর্মকর্তারা বাস্তব সময়ে ই-চালানের তথ্য পাবেন। ফলে আমদানি ও রফতানি সংক্রান্ত সেবাগুলো আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

ই-পেমেন্ট সুবিধার কারণে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহক ক্যাশ অন কাউন্টার (ব্যাংক ব্রাঞ্চ), অনলাইন অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউক্যাশ ইত্যাদি) ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড (ভিসা, মাস্টার, এমেক্স, নেক্সাস ইত্যাদি) সহ অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে পেমেন্ট দিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর (সিসিআইঅ্যান্ডই) সিসিআইঅ্যান্ডই গত জুন থেকে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ সেটার সোনালী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা চাই, সবাই ঘরে বসে সব রকমের সুবিধা উপভোগ করুক।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আমদানি নিবন্ধন সনদ, রফতানি নিবন্ধন সনদ, শিল্প আমদানি নিবন্ধন সনদ, ইন্ডেন্টিং নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি সেবা ‘অনলাইন লাইসেন্সিং মডিউল (ওএলএম) সফটওয়্যার’ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সেবা পেতে নির্ধারিত ফি টিআর চালানের মাধ্যমে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়ালি জমা করতে হতো গ্রাহকদের। এরপর সেই চালানের স্ক্যান কপি আপলোড করে সিসিআইঅ্যান্ডই সেবার জন্য আবেদন করতে হয়।

টিআর চালান জমা হওয়ার পরদিন দুপুর ১২টার পরে সিজিএ অফিসের ওয়েবসাইট হতে অনলাইনে যাচাই করা হয়। এতে সেবাগ্রহীতাকে চালানের অর্থ জমা দেবার পরেও কাঙ্ক্ষিত সেবার জন্য একদিন অপেক্ষা করতে হতো। এর অন্যতম কারণ পেমেন্ট ব্যবস্থা ছিল সনাতনী ধাঁচের। আর সেই ভোগান্তি ঘোচাতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা।