শনিবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লিঙ্গ রূপান্তর/হিজড়া, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময়, জনগোষ্ঠীর মানুষেরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। বাক স্বাধীনতা,পরিচয়ের স্বচ্ছতাসহ বেশকিছু দাবিতে জোটবদ্ধ হন তারা প্রশ্ন রাখেন, ‘রূপান্তরিত নারী-পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গ বলা হয়। আমরা যদি তৃতীয় লিঙ্গ হই তাহলে প্রথম লিঙ্গ কারা?’ তারা জানান, সমাবেশের উদ্দেশ্য ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের কথা এবং পরিচয় তুলে ধরা এবং বাক স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা।
সম্পর্কের নয়া সেতু এবং সচেতন সমাজসেবা হিজড়া সংঘ নামে দুটো সংগঠনের আয়োজনে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরেন তারা। তারা বলেন, ‘রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা লিঙ্গ রূপান্তর/ হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মানুষেরা আশা করছি, বর্তমান সরকার আমাদের স্বীকৃতি প্রদান করছে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এখন থেকেই লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষদের শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি এবং তাদের বাক স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে, মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকার তারা নিশ্চিত করবে।’
আয়োজকরা বলছেন, বাংলাদেশ সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দ্বারপ্রান্তে। বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের অন্যান্য জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার পর অর্ধ-শতাব্দী পার হয়ে গেছে। আমরা লিঙ্গ রূপান্তর/হিজড়া, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষেরা তখনও এই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলাম। এখনও আছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত ৫০ বছরেও রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত বিভিন্ন সরকার ঠিকভাবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি।
সম্পর্কের নয় সেতুর প্রেসিডেন্ট জয়া সিকদার বাংলা ট্র্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে এখনও যে দ্বিধান্বিত পরিস্থিতি দেখতে পাই, তার পরিবর্তন চাই। হিজরা একটি সংস্কৃতি। রূপান্তরিত নারী ও রূপান্তরিত পুরুষরা এই সংস্কৃতির মধ্যে থাকেন। আমাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ বলার প্রবণতা দেখা যায়। আমরা যদি তৃতীয় লিঙ্গ হই তাহলে প্রথম লিঙ্গ কারা? পুরুষ জাতি? তাই যদি হয় তাহলে তো আমরা আবারও সেই পুরুষতান্ত্রিকতারই চর্চা করছি।’
রূপান্তরিত জনগোষ্ঠী থেকে আসা আলোচকরা বলেন, এখনও আমরা প্রান্তিক। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে এখনও আমরা আমাদের বাক স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সকল প্রকারের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখনও আমরা কোথাও নিজেদের পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি না। পরিবারে আমাদের জায়গা দেওয়া হয় না, সমাজ আমাদের পরিচয় মেনে নেয় না, রাষ্ট্র আমাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে না। এখন সময় এসেছে। গত অর্ধ-শতাব্দী ধরে এই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা শুধুমাত্র লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে নানা ধরণের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছি। আর নয়। আমরা যাতে আমাদের নিজেদের পরিচয়ে বাক স্বাধীনতাসহ অন্য সকল মৌলিক অধিকার নিয়ে একজন নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।