১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টিকে বাংলাদেশে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের (আইসিএসএফ) মতবিনিময় সভায়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আইসিএসএফ এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের যৌথ উদ্যোগে ‘১৯৭১-এর বাংলাদেশ গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি’ শীর্ষক অনলাইনভিত্তিক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।
এতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ২৬টি শহর থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন দর্শক ও বিশেষজ্ঞরা।
২৫ মার্চ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় ফেসবুক, ইউটিউব, এবং টুইটারে ক্যানবেরা থেকে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সূচনা করেন কলাম লেখক ড. এজাজ মামুন। ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার ইতিহাস এবং এর বৈশ্বিক স্বীকৃতির পটভূমি তুলে ধরেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালের জেনোসাইড স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপরই পরিবেশন করা হয় পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার ওপর আইসিএসএফ নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ক্রিড ফর জাস্টিস’।
সভায় আইসিএসএফ সরকারের প্রতি যে আহ্বান জানায়- ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতির বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বিবেচনা করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এ চেতনার প্রতিফলন ঘটানো।
১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টিকে বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শিরিন আখতার। গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিতে সহকর্মী সাংসদদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সকল কূটনৈতিক চ্যানেল ও বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশনগুলোর কর্মকর্তারা তাদের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে স্বীকৃতি আদায়ে সচেষ্ট হতে পারেন।’
ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, জেনোসাইডের স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে ওঠাটা অত্যন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে মানসম্মত গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।’
আইসিএসএফ-এর আরেক ট্রাস্টি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জেনোসাইড নিয়ে আমাদেরই আলোচনা করতে হবে, গবেষণা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জনগণের ওপর, দেশের ওপরে যে বর্বরতা সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার দেখতে চাই।’