তিনি আজ বুধবার (৬ জানুয়ারি) তার দফতরে কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, আমাদের রাষ্ট্রদূত যখন তাদের জিজ্ঞাসা করেছে কেন বাংলাদেশের কূটনীতিককে প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হচ্ছে, তখন সে বিষয়ে পাকিস্তান কোনও কারণ দেখাতে পারেনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনই কোনও ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি ব্যবহার করে কাউকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি, বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সঙ্কটে ফেলতে পারে এরকম কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেব না, অতীতেও দেইনি।’
‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রাখার জন্য যতটুকু ধৈর্য ধরার দরকার আমরা সেটা করবো। কিন্তু পাকিস্তান যা করেছে তাতে এখন আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
পাকিস্তান তার সীমা অতিক্রম করলে বাংলাদেশ সম্পর্ক ছিন্ন করবে কিনা সে বিষয়ে তিনি বলেন আমরা কোনও সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (পাকিস্তানের) মহাপরিচালক (মোহাম্মাদ ফয়সাল) আমাদের হাই কমিশনারকে কোনও কারণ জানাতে পারেননি।’
জঙ্গিদের সহায়তার জন্য পাকিস্তান দূতাবাসের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে বাংলাদেশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ত্যাগ করতে বলেছিল এবং তাকে ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর জের ধরে পাকিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাউন্সিলর মৌসুমি রহমানকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
তাকে পর্তুগাল পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং আগামীকাল ইসলামাবাদ খেকে তিনি নতুন জায়গায় যোগ দেবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মৌসুমি খুব ভালো কাজ করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে যখন একজন পাকিস্তান ডিপ্লোম্যাটকে প্রত্যাহার করা হয়, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম পাকিস্তান এর প্রতিশোধ নেবে এবং আমাদের প্রস্তুতি ছিল।’
সংসদে পাকিস্তান নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কেউ যদি অগ্রহণযোগ্য কোনও অবস্থান নিয়ে থাকে, ইতিহাসকে ৪৪ বছর পর অন্যভাবে উপস্থাপন করে, এগুলো অবশ্যই জাতি হিসেবে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ জায়গায় সংসদ মনে করলে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে।’
/এসএসজেড/এফএ/আপ-এনএস/