করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফার লকডাউনে সারাদেশে অধস্তন আদালতগুলোতে দুই হাজার ৭২৮টি আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানি ও নিষ্পত্তি করে এক হাজার ৩৯৫ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দশ কার্যদিবসে ৩৬ হাজার ২৪০টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২০ হাজার ৩৯ জন হাজতি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে অধঃস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যাতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন এবং অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তের ওপর শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সারাদেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে দুই হাজার ৭২৮টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এক হাজার ৩৯৫ জন হাজতি অভিযুক্ত আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম দিনে সারাদেশে অধস্তন আদালতে এক হাজার ৬০৪ জন, দ্বিতীয় দিনে তিন হাজার ২৪০ জন, তৃতীয় দিনে দুই হাজার ৩৬০ জন, চতুর্থ দিনে এক হাজার ৮৪২ জন, পঞ্চম দিনে এক হাজার ৬৩৫ জন, ষষ্ঠ দিনে এক হাজার ৫৭৬ জন, সপ্তম দিনে এক ৩৪৯ জন, অষ্টম দিনে এক ৫৯২ জন, নবম দিনে এক ৮৩৯ জন এবং দশম দিনে এক ৫৯৩ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সর্বমোট এগারো কার্যদিবসে ৩৬ হাজার ২৪০টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২০ হাজার ৩৯ জন হাজতি কারামুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি এ সময়ে জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ২৪৬ জন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রাদুর্ভূত মহামারির (কোভিড-১৯) ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন এবং অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তগুলো নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
এছাড়াও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।