আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দে তরুণদের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই। তরুণদের উন্নয়নের জন্য যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই তাদের কাজে লাগে না। এরমধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ সরাসরি তরুণদের কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬০ শতাংশ বরাদ্দ তরুণদের কাজে লাগে না। আর বাকি ২৬ শতাংশ বরাদ্দ আংশিকভাবে তরুণদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
রবিবার (১৩ জুন) সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘তরুণদের প্রেক্ষাপটে বাজেট’ বিষয়ে আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য দেওয়া হয়।
অনলাইনে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের গবেষক ইশরাত শারমীন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দে তরুণদের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই। এরমধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়। তরুণদের উন্নয়নের জন্য ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত। তরুণদের উন্নয়নের জন্য যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই তরুণদের কাজে লাগে না। এর মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ সরাসরি তরুণদের কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬০ শতাংশ বরাদ্দ তরুণদের কাজে লাগে না। আর বাকি ২৬ শতাংশ বরাদ্দ আংশিকভাবে তরুণদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আলোচনায় অর্থনীতিবিদ, তরুণ, বেসরকারি উন্নয়নকর্মী, সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। সঞ্চালনা করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক।
অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাজেটে তরুণদের জন্য বরাদ্দ বেশ কম। এবারের কোভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ—এসব খাতে উদ্যোগের ঘাটতি আছে। জনমিতির সুবিধা (জনসংখ্যার অনুপাতে তরুণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি) কাজে লাগাতে হবে।
সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, দুঃখজনক হলেও তরুণদের জন্য অনেক ভালো উদ্যোগে বাস্তবায়নের ঘাটতি আছে। তরুণদের যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা কি শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু তরুণদের ছাড়া কীভাবে এত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব? তাই তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুল ইসলাম বলেন, কোভিডের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ সমাজ। বিশেষ করে বস্তি এলাকার অনেকে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়েছেন। এখনও জানি না কত শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছেন। যখন স্কুল-কলেজ খুলবে, তখন তা বোঝা যাবে।
করোনাকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। করোনার কারণে দরিদ্র পরিবারের তরুণেরা ভুগছেন। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। এমন তরুণদের নিয়ে কী করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
অ্যাগ্রো ভেঞ্চারসের পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা ফারদিন ফেরদৌস আলম বলেন, বাজেটে তরুণদের জন্য আলাদা কোনও পরিকল্পনা নেই। দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করবে, এমন কিছু উদ্যোগ আছে। কিন্তু করোনার সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি কোনও উদ্যোগ নেই। প্রণোদনা প্যাকেজ থেকেও তরুণেরা তেমন কিছু পাননি। তাই সরকারের উদ্যোগের জন্য অপেক্ষা না করে বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে অর্থ আনার জন্য তরুণদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।