পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। মঙ্গলবার (২২ জুন) গণস্বাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এককভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারবে না। যৌথভাবে সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় ও সার্বিক সহায়তা ছাড়া যথাযথভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সমন্বিত উদ্যোগই বাঁচাতে পারে হাজারো শিশুর প্রাণ।’ তিনি বলেন, ‘সরকার ও দাতা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পাইলট ভিত্তিতে কয়েকটি জেলায় কিছু কিছু কাজ হচ্ছে। শিশু সুরক্ষার জন্য দেশব্যাপী এসব কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ বিষয়ে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিপিপিটি যাতে দ্রুত একনেকে অনুমোদন হয়, আমার পক্ষ থেকে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা জানান, মন্ত্রণালয় শিশুদের সুরক্ষায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। শিশুর জীবন সুরক্ষায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২ লাখ ৮০ হাজার শিশুর প্রশিক্ষণ চলমান আছে। শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজও চলমান আছে।
সভাপাতির বক্তব্যে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, ‘এনজিওদের সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়বে, তেমনই কম সময়ের মধ্যে সারা দেশে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করছি, দ্রুততর সময়ের মধ্যে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে ডিপিপি অনুমোদিত হবে।’
বেসরকারি সংগঠন গণস্বাক্ষরতা অভিযান, বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক, সিআইপিআরবি ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা গ্লোবাল হেল্থ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) পরিচালক ড. আমিনুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখা গেছে, দিনের প্রথমভাগে শিশুদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হলে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে গ্রামভিত্তিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
ওয়েবনিয়ারে আরও উপস্থিত ছিলেন— সংসদ সদস্য ফজলে হাসান বাদশা, ড. মনজুর আহমদ, সেলিনা হোসেন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা।