‘লকডাউনে সবার জন্য সমান নীতি বজায় থাকা জরুরি’

লকডাউনে সব স্থানে সবার জন্য সমান নীতি বজায় থাকা জরুরি বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংগঠনটি মনে করে, কারখানা চালু রেখে গণপরিবহন বন্ধ বা অন্য ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলে তা প্রকৃতপক্ষে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাবে না। বরং মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থা তীব্র করে তুলবে। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় তারা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়, করোনার সংক্রমণ রোধে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে সাত দিনের ‘কঠোর লকডাউন’। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ লকডাউন সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরদারভাবে তৎপর থাকবে বলে বার বার জানানো হয়েছে। সব ধরণের যন্ত্রচালিত গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও খোলা রাখা হয়েছে শিল্প ও পোশাক কারখানা।

যন্ত্রচালিত গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবং শিল্প ও পোশাক কারখানাগুলোর সব প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীদের আনা-নেওয়ার জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না-থাকায় কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শত শত মানুষকে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা দেখা গেছে। আবার কাউকে কাউকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে রিকশা-ভ্যানসহ নানা বিকল্প পরিবহনের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। যা শ্রমজীবী মানুষদের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তাছাড়া, জরুরি চিকিৎসার জন্য যাদের যন্ত্রচালিত পরিবহনের প্রয়োজন পড়ছে, তারাও বিপাকে পড়ছেন।

এতে আরও বলা হয়, শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষদের জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে শাটডাউন বা লকডাউন দেওয়া হলে তা তাদের চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। এছাড়া করোনার কারণে দেশে জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকা হারিয়ে ইতিমধ্যে দুর্দশায় রয়েছে। এভাবে শাটডাউন ঘোষণার আগে সরকারের উচিত এ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনের জন্য সরকারি তত্বাবধানে পরিবহন নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

আসক জানায়, লকডাউনের প্রথম দিনেই বিধি-নিষেধ না মেনে অকারণে বাসা থেকে বের হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, তারা লকডাউনের কথা জানেন না। ফলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত বিধি-নিষেধগুলো আরও স্পষ্ট বা সাধারণের বোধগম্য করে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা আবশ্যক।