লকডাউন চলাকালে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবীসহ দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার, আটক ও জরিমানার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
এইচআরএফবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সারাদেশে ১ জুলাই থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। এরপর থেকে গত চারদিনে শুধু ঢাকা শহরেই দুই হাজার ১০০ জনেরও বেশি গ্রেফতার বা আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ৬৯, ৭৭, ৭৮ এবং ১০০ ধারার অধীনে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। আবার এদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষসহ অনেকে যারা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই মূলত জীবিকার প্রয়োজনসহ বিভিন্ন জরুরি কারণে বের হতে বাধ্য হয়েছিলেন; তাদেরকে আটক ও জরিমানার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এইচআরএফবি।
সংগঠনটির দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশীরভাগ মানুষ ছিল নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। এরমধ্যে এমন অনেককে জরিমানা করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী। তাদের সাপ্তাহিক আয় চলে যাচ্ছে জরিমানা বা আইনজীবীর ফিস পরিশোধ করতে গিয়ে। লকডাউনে কাজ না থাকায় তারা চূড়ান্ত বিপর্যয়ে পড়ছেন। অনেকেই জরিমানা দিতে পারছেন না। তাছাড়া মামলার জন্য যখন তারা আদালতে যাচ্ছেন সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা কমানো হচ্ছে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে মওকুফ করা হচ্ছে। তবে যাদের জরিমানা প্রদান করতে হচ্ছে, যে পরিমাণেই হোক না কেন, তাদের জন্য তা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
শ্রমজীবী মানুষদের জরিমানা না করা বা কারাগারে না পাঠানোর জন্য আহ্বান জানায় এইচআরএফবি।