‘বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন’

তদানীন্তন পাকিস্তানী স্বৈরশাসকগণ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে অন্যায়ভাবে বার বার জেলে বন্দি রাখার পরও বঙ্গবন্ধু তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। এটিকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেছেন ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ সম্মাননায় ভূষিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. রিচার্ড ক্যাশ।

রবিবার (১৫ আগস্ট) ব্রাসেলসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ড. রিচার্ড ক্যাশ এবং বেলজিয়ামে রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ্’র ইংরেজিতে কথোপকথন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। সেখানেই তিনি একথা বলেন।

কথোপকথনে ড. রিচার্ড ক্যাশ ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশে তার অবস্থানের অভিজ্ঞতা উল্লেখপূর্বক বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সংস্কৃতি ছিল আন্তঃসম্পর্কিত। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি সংস্কৃতির একজন পূর্ণাঙ্গ ধারক, যিনি নিজেকে উজাড় করে তাঁর দেশ ও মানুষকে ভালবেসেছেন।’ 

ষাটের দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ছয় দশকের নিবিড় সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে ড. উইলিয়াম গ্রীনো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর গড়া বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সকল অর্জনের মধ্যেই তাঁর ঐতিহ্য ও দর্শন নিহিত আছে।’

এছাড়া সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাউলো কাসাকা’র একটি ইংরেজি ভিডিও বক্তৃতা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়।

পাউলো কাসাকা তার ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ‘ঔপনিবেশিক কালের বিশ্ব নেতাদের প্রজন্মে শেখ মুজিবুর রহমান এক অনন্য উদাহরণ, একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের অর্জন ও ঐতিহ্যকে সম্মান দেখানোর সর্বোত্তম উপায় হলো, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখা।’

দূতাবাসের ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/bangladeshembassybrussels/) থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে।

এদিকে আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ্ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ অভিন্ন ও সমার্থক। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে কার্যত ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে হত্যা করা হয় এবং বাংলাদেশের পশ্চাদমুখী যাত্রার অপসূচনা ঘটে। কিন্তু জাতির পিতার অবর্তমানে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে আলোর দিশা দেখিয়ে যাচ্ছেন। 

রাষ্ট্রদূত সালেহ্ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করতে প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।