কাবুলের নারীদের আবেদন

আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন

আমরা এখন কেবল টিকে থাকা আর বেঁচে যাওয়া নিয়েই ভাবছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। কাবুলে থাকা উন্নয়নকর্মী, নারী অধিকারকর্মী আর শিল্পীদের নানা আকুল আবেদনে বারবার এই কথায় উঠে আসছে। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় সেখানে বসবাসকারী কিছু মানুষের। তারা তাদের শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। কাবুল থেকে গত তিন দিনে উন্নয়নকর্মী, শিল্পী, অ্যাক্টিভিস্টরা বারবারই তাদের শঙ্কার কথা জানিয়ে পূর্বের তালেবানের শাসনামলের নির্মম অভিজ্ঞতা ফিরে আসলে কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে সেই বার্তা দিচ্ছেন। যদিও তালেবানের মুখপাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা ক্ষমতায় আসলে নারীর অধিকার ও সংবাদমাধ্যমকে সম্মান করা হবে।

কাবুল দখলের পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো তালেবানরা ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানিস্তানের নারীদের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত দশ দিনে পুরো আফগানিস্তান দখলে নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে যাচ্ছে তালেবান। শত প্রতিশ্রুতির পরেও এতে করে বিশেষ করে নারীদের প্রতি কী আচরণ হবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

image2উল্লেখ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানরা যখন আফগানিস্তান শাসন করে তখন শরিয়াহ আইনে নারীদের নানারকম ভয়ংকর শাস্তি দেওয়া হতো। ‘ব্যভিচারের’ জন্য পাথর মেরে হত্যা করা হতো। ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। যদিও এবার তালেবান বলছে, নারীদের একা বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তারা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখতে পারবেন।

মানবাধিকারকর্মী হামিদ হোসেইনজাদা বলেন, এখন আমাদেরকে আপনাদের প্রার্থনায় রাখুন। এর বেশি আর কিছুই ভাবতে পারছি না। কোনও ধরনের সহযোগিতা করার কোনও সুযোগ আছে কিনা বা কাবুল ছাড়তে চান কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন বের হওয়ার পথ আপাতত বন্ধ। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দোয়া প্রার্থনা ছাড়া কিছুই এখনও স্পষ্ট করে বলতে পারছি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী উন্নয়নকর্মী বলেন, তালেবান তাদের যতই নতুন রূপে আসার কথা বলুক সেটা বিশ্বাস করতে আমাদের আরও কিছু সময় দরকার। আমি আমার নিজের ও আমি যাদের মধ্যে কাজ করতাম সেই নারীদের নিয়ে নিয়ে শঙ্কিত। একটা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আগেই কিছু ‘রেস্ট্রিকশন’ নিজেরাই আরোপ করে নিয়েছি।

image3চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরা কারিমি ১৫ আগস্ট টুইট করেছেন। তালেবানরা কাবুলকে ঘিরে ফেলেছে, আমি টাকা তুলতে ব্যাঙ্কে যাচ্ছিলাম, কিন্তা তারা সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না এটি ঘটেছে। দয়া করে আমাদের জন্য দোয়া করুন। ১৬ তারিখ সকালে লিখছেন, সকাল হয়ে গেল। সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার। হতাশায় ভরা একটি সকাল; বেদনার জগত নিয়ে সকাল।

এই তালেবান নয়া তালেবান কিনা প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতাক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিলয় বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিবৃতির মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে এবার তালেবান কট্টরপন্থা অবলম্বন করবে না। কিন্তু নারী প্রশ্নে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সামনে তাদের অবস্থান কী হবে এটা জানতে আরও কিছু সময় যেতে দিতে হবে। তিনি বলেন, যারা আমরা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করছি আর যারা ভেতরে অবস্থান করছেন উভয়পক্ষই আসলে সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না যে এরা আসলে সংস্কারপন্থী। তবে যেহেতু বড় রকমের আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে আসছে ফলে আশা করা হচ্ছে তারা আগের মতো কট্টরপন্থী নাও  হতে পারে। তবে এই আশা করাটা ভুলও প্রমাণিত হতে পারে। সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনও আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।