মহামারিতেও তামাক সেবনের পরিমাণ ১৬ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) আরকেড ফাউন্ডেশন এবং এআরকে ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এমন গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাংলাদেশের বয়স্কদের মধ্যে তামাক সেবনের ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে তার প্রভাব সম্পর্কে জানতেই এ গবেষণা পরিচালিত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে একইসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিবিধি কমিয়ে দিচ্ছে। এই মহামারির ফলে হাজারও মানুষ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে। এই সংক্রমণের ফলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
একটি গবেষণাপত্র তুলে ধরে ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস এর পিএইচডি স্কলার সবুজ কান্তি মিস্ত্রি বলেন, গবেষণায় সাম্প্রতিক উত্তরদাতাদের প্রায় অর্ধেকই বর্তমান তামাক ব্যবহারকারী। তাদের তামাক এবং এসএলটি (ধোঁয়া বিহিন তামাক) উভয়ক্ষেত্রে তামাক সেবনের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হার গ্রামাঞ্চলের পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মাঝে বিপুল সংখ্যক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের পেছনে কোভিড -১৯ লকডাউনের কারণে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, মনোসামাজিক প্রভাব, বিষন্নতা ও বেকারত্বের সম্ভাব্য প্রভাব ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান এবং এআরকে ফাউন্ডেশনের এ্যাডভাইজার নাসিরউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে গবেষণার এবং নীতিনির্ধারণের সমন্বয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি গবেষণার ফলাফলকে আরও গুছিয়ে এবং সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য হবে বলে অভিহিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরকেড ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক এআরএম মেহরাব আলী, সেন্টার ফর 'ল' অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) এর সচিব মাহবুবুল আলম তাহিন, অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেশন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব হেল্থ এর ড. মুহাম্মদ আজিজ রহমান তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।