হাতিয়ায় স্থানীয়রাই টাকা তুলে ঠেকাচ্ছেন নদীভাঙন

নদীভাঙনে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্বীপটিকে বাঁচাতে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে একনেকে। তবে তার আগে স্থানীয়রাই হাতে নিয়েছেন প্রকল্প।

প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস। প্রকল্পের জন্য স্থানীয়রা অর্থ জোগান দিলেও মোহাম্মদ আলী ও আয়েশা ফেরদাউস পরিবারই দিয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে চলেছে ‘হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’।

হাতিয়া

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড হাতিয়ার ভাঙনপ্রবণ এলাকার ২৯৭ মিটার জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তাতে দেখা যায় ওই এলাকার ভাঙন কিছুটা কমেছে। তাই স্থানীয়রা ঠিক করেছেন, জিও ব্যাগ দিয়েই হাতিয়ার ভাঙন অনেকটা ঠেকানো যাবে।

২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। ১৫ দিনের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। যে কারণে এলাকাবাসীই এ উদ্যোগ নেয়।

৩০ মে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে দ্বীপের নলচিরা ঘাটে এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী ও সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস।

IMG-2145আয়েশা ফেরদাউস জানান, ‘এ কাজের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সরকার ২৬ এপ্রিল এক পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ছাড়া সব ধরনের উন্নয়ন কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।’ এ কারণে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বলে জানান তিনি। এ অবস্থায় সরকারের দিকে না তাকিয়ে দ্বীপটাকে বাঁচাতে তারা নিজেরাই এ উদ্যোগ নেন।

তিনি আরও জানান, এবছর প্রকল্পটি নেওয়া না হলে বর্ষায় দ্বীপের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র আফাজিয়া বাজার বিলীন হয়ে যেত। হাতিয়ার বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। স্থানীয়দের অনুদানেও দ্রুত এগিয়ে চলছে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ।

IMG-4422সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মুহিন জানান, আপাতত ৭০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার লক্ষ্য আছে। এরইমধ্যে ৫০০ মিটার ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। পাড়ের সাড়ে চারশ মিটারের প্লেটিংও শেষ হয়েছে। বাকিটা শেষ হতে মাসখানেকের মতো লাগবে। পুরো কাজে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ সংগঠনের তহবিলে মোট অনুদান পাওয়া গেছে দেড় কোটি টাকার। অনেকেই অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৫০ লাখ টাকার বকেয়া এখনও পরিশোধ হয়নি। তবে সরকারি অনুমোদনের আগ পর্যন্ত এ কাজ চলতে থাকবে।

মুহিন বলেন, গাজীপুরের একটি কারখানা থেকে পাঁচ ধাপে ৬০ হাজার জিও ব্যাগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১০ হাজার ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আছে ৭০ হাজার ব্যাগ এসেছিল। বালু ভরা ও ডাম্পিংয়ের জন্য রংপুর থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৬৫ জন শ্রমিকও আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় ২০ জন কাজ করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি সহায়তায় কাজ করছেন ওই শ্রমিকরা।

হাতিয়া

আর্থিক আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। সংগঠনের ফেসবুক পেজে প্রতিদিন অনুদান দাতাদের নাম ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মহিউদ্দিন মুহিন।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহম্মেদ পাটোয়ারী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এসে বলেন, ‘এখানে পানির গভীরতা ভালো। জিও ব্যাগ ফেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। আমরা একটি নকশা দিয়েছি। আমাদের একজন প্রতিনিধিও কাজের তদারকি করছেন। বাজেট না থাকায় আমরা কাজটি করতে পারছি না। দ্বীপবাসী নিজস্ব অর্থায়নে করছে। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবছর করোনার কারণে যখন একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে গেলো তখন আমরা চিন্তা করলাম এবছর যদি ভাঙণ রোধ করা না যায় তাহলে দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী আফাজিয়া বাজার ভেঙে যাবে। তাই মোহাম্মদ আলী সাহেবসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ মিটিং করে প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে।