কাবুলে সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবাদী দেয়ালচিত্র

‘‘এবং যা হওয়ার কথা ছিল তা শুরু হয়ে গেছে। তালেবানরা আমাদের নানা ম্যুরালের ওপর চুনকাম শুরু করে দিয়েছে। তারা সেই ঐতিহাসিক জায়গা থেকে শুরু করেছে, যে দেয়ালে ‘দোহা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর ম্যুরাল করা হয়েছিল। ম্যুরাল মুছে তারা সাদা রঙের ওপরে কালো দিয়ে মোল্লা হায়বেতুল্লাহর উদ্ধৃতি লিখে দিয়েছে—‘শত্রুর প্রপাগান্ডায় কান দেবেন না’।’’

কথাগুলো লিখেছিল কাবুলের দেয়ালে ম্যুরাল আঁকছেন যারা, সেই সংগঠন ‘আর্টলর্ডসের’ সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওমাইদ শরিফি। এই দেয়ালের আগের ও বর্তমানের ছবি দিয়ে তিনি আফসোসের সুরে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এবং যা হওয়ার কথা ছিল তা শুরু হয়ে গেছে।’

কাবুলের একটি দেয়ালে আর্টলর্ডসের আঁকা ম্যুরালএই দফা তালেবানদের কাবুল দখলের পর শরিফি ও তার সঙ্গীরা কখনও লুকিয়ে, কখনও গৃহবন্দি থেকে রক্ষা পেয়েছেন এবং সুযোগ বুঝে সব পেছনে ফেলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কেমন আছেন, জিজ্ঞেস করতেই শরিফি বলেন, ‘আমি শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি, এখন আবুধাবিতে।’ এরপর কেমন থাকার আর উত্তর হয় না। 

তার সংগঠন অন্যদের সঙ্গে মিয়ে অর্থ সহায়তা সংগ্রহের কাজ করছে। শরিফি  তার পোস্টে লেখেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা অধিকাংশই বাধ্য হয়েছি মাতৃভূমি ত্যাগ করতে। আমরা অনেককেই পেছনে রেখে এসেছি, তারাও চলে আসতে চান। আপনার অনুদান এবং সমর্থন তাদের থাকা না-থাকায় একটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করবে।’

ওমায়েদ শরিফি সমমনা বন্ধুদের নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০১৪ সালে। বদলে দিতে চেয়েছিলেন কাবুলের দেয়াল। প্রতিটি দেয়াল শান্তি ও শপথের বার্তা বহন করবে, সেটাই চেয়েছিলেন তারা। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা আঁকাআঁকি শুরু করি, তখন রাস্তা আটকে মানুষ বোঝার চেষ্টা করতো আসলে কী হয়, আমরা কী করতে চাই। তাদের জন্য এটা দেখাটাও একটু অদ্ভুত ছিল। সেই তারাও এখন ফের আগের অভ্যস্ত চোখে ফিরে যেতে বাধ্য হবে।’