মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি

মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছিল, তাদেরকে বঙ্গবন্ধু ক্ষমা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন তাঁর নিজের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে যারা হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বাদ দিয়ে তিনি বাকিদের ক্ষমা করেছিলেন। সেটিকে বিকৃত করে একটি মহল কুৎসা রটাচ্ছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সোমবার (৪ অক্টোবর) রাতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে ‘শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালার পঞ্চম পর্বের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ড. ফকরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং রিসার্চ ফেলো হাসান নিটোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতৎপরতা, অতি বাম ও ডান পন্থীদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু সংগ্রামী ও মুক্তিকামী নেতা হিসেবেও সোনার বাংলা গঠনে সফল হতে পারেননি, ঘাতকরা তাঁকে সোনার বাংলা গড়তে দেয়নি। এটা ইতিহাসের নির্মমতা ও বাঙালি জাতির জন্যে দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি এ সব অপতৎপরতাকে সমূলে ধ্বংস করে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে হাত দিয়েছিলেন ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে। দ্বিতীয় বিপ্লব দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন আনয়নের পন্থা হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতির সামনে উপস্থাপন করেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘জনগণ বলতে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষকে বুঝিয়েছেন। এসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যে তিনি সারাজীবন কাজ করে গেছেন। শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন তাঁর নিজের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে যারা হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বাদে তিনি বাকিদের ক্ষমা করেছিলেন। সেটিকে বিকৃত করে একটি মহল কুৎসা রটাচ্ছে।’