আরিচা ঘাট ৫০০!

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঢোকার পথে হাকডাক শোনা যাচ্ছে, আরিচা ঘাট ৫০০, আরিচা ঘাট ৫০০। বাস চলাচল বন্ধের সুযোগে টার্মিনালের একটি চক্রের সহায়তায় প্রাইভেট কারে যাত্রী পরিবহনের সুযোগে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তবর্গ ও প্রাইভেট কার চালকদের যোগসাজশে চলছে কর্মকাণ্ড। এসব বিষয় দেখভালের জন্য দেখা যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা।

গাবতলী থেকে আরিচার দিকে যাচ্ছেন যাত্রীরা বিভিন্ন প্রাইভেট কার কিংবা পিকআপে গাদাগাদি করে যারা যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবুও বাস না চলায় জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে আসা এসব মানুষকে ফিরতেই হচ্ছে।

প্রাইভেট কারে যাত্রী ওঠাতে এক ব্যক্তির তৎপরতা দেখা যায়। তিনি নিজেকে গাবতলী বাস টার্মিনালের একজন পরিবহন শ্রমিক বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে সহায়তা করছি। যাত্রীদের দুর্ভোগ দেখে কষ্ট হচ্ছে। সে জন্যই প্রাইভেট কারে যাদের পারছি পাঠিয়ে দিচ্ছি। তবে ভাড়াটা একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

প্রাইভেটকার চালক জসিম বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠাচ্ছি। টার্মিনালের কয়েকজন সদস্যকে কিছু টাকা পয়সা দিতে হবে, আর পুলিশকে তো দিতেই হবে। পুলিশের টাকা টার্মিনালের লোকজনের কাছে দিয়ে যেতে হবে।’

গাবতলী থেকে আরিচার দিকে যাচ্ছেন যাত্রীরা শামীম নামের এক যুবক রাজধানীতে এসেছিলেন গত বৃহস্পতিবার চাকরির পরীক্ষা দিতে। আজ পরীক্ষা শেষ করে বাড়ির রওনা হলে গাবতলী টার্মিনালে এসে কোনও বাস না পেয়ে পরে পিকআপে উঠে বসেন। আরিচা ঘাট পর্যন্ত যাবেন। তারপর সেখান থেকে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাবেন। সঙ্গে থাকা তার বন্ধু জহিরুল বলেন, ‘এখন তো আরিচা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য পিকআপ পেয়েছি। ঘাট পার হয়ে যদি কিছু না পাই তাহলে হেঁটেই চলে যাবো। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

আর পিকআপে করে যারা যাচ্ছেন আরিচা ঘাটে, তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। পিকআপ পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীতে ঠাসা এবং কানায় কানায় পূর্ণ হলেই ছেড়ে যাচ্ছে পিকআপগুলো। এসব পিকআপেও যাত্রী ওঠানোর কাজে রয়েছেন গাবতলী বাস টার্মিনালের বেশ কয়েকজন শ্রমিক।