জ্বালানি তেল ও এলপিজি’র মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন পেশাজীবীরা। তারা বলেছেন, ডিজেল-কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ, পরিবহনে যাত্রী ভাড়া ও পণ্য পরিবহনে ব্যয় বাড়বে। ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণ।

রবিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সচেতন জনতার মঞ্চ’ আয়োজিত ‘জনস্বার্থবিরোধী ডিজেল ও কেরোসিন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেছেন তারা।

মানববন্ধনে ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘তেল বিপণন কোম্পানি প্রায় চার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। কারণ, সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ কম ছিল। গত ৭ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকার পরও দেশে দাম না কমিয়ে সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। সেই মুনাফার টাকা কোথায়। সেই মুনাফার একটা অংশ এখন ভর্তুকি হিসেবে দিলেও দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।’

মুহম্মদ আতাউল্লাহ খান বলেন, ‘এমনিতেই চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা। এমতাবস্থায় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি এলপিজির দাম মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে ৫৪ টাকা। এটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে জনগণের জীবন যাত্রাকে আরও বিপদে ফেলে দেবে।’

অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে মূল্য সমন্বয়ের নামে ডিজেল-কেরোসিন ও এলপিজি’র দাম বাড়ানোর কথা বলছে সরকার। অথচ যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমে তখন মূল্য সমন্বয় করে দাম কমানো হয় না। বরং সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মুনাফার নামে লুটপাটে ব্যস্ত থাকেন।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার ফলে এখন বাসে ভাড়া বৃদ্ধি হবে। বর্তমানে বাজারে দ্রব্যমূল্য জনগণের জন্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ বছর করোনা মহামারিতে জনগণ কোনোরকম করেছে জীবনধারণ করছে। সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে আবারও কেরোসিন ও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনজীবনকে বিপণ্ণ করে তুলবে।’

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতারা।