যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মশাল মিছিল এবং পথে লাঠি খেলা প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে নারীরা। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড়ে আসলে মিছিলটি পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সংসদ ভবন এলাকায় যেতে পারেনি মিছিলটি। এরপর মিছিলটি ঘুরে এসে শংকর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঘোষণাপত্র পাঠ করার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। এসময় নারীরা ‘নারীর ওপর অত্যাচার সইবো না কো আমরা আর’ স্লোগান দিতে থাকেন।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর ডোমিনিকান রিপাবলিকের স্বৈরাচারী সরকারবিরোধী মিরাবের ভগিনীত্রয়কে সেনা সদস্যরা ধর্ষণ ও হত্যা করে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ১৯৮১ সালে ল্যাটিন আমেরিকান ও ক্যারিবিয় নারীরা এই হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ করে ২৫ নভেম্বরকে ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ওমেনস গ্লোবাল লিডারশিপের এক প্রশিক্ষণে ২৩টি দেশ থেকে আগত অংশগ্রহণকারী নারীরা ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত পক্ষকাল ব্যাপী নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করেন। এই ডাকে সাড়া দিয়ে ১৮৭টি দেশে ছয় হাজারের বেশী সংগঠন ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব অভিযানে অংশগ্রহণ করে আসছে। বাংলাদেশে ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস উদযাপন কমিটি' ১৯৯৭ সাল থেকে একেক বছর একেকটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালন করছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ’।
এতে আরও বলা হয়, নারী নির্যাতনের চরম সহিংস রূপ হচ্ছে ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা। আমরা বর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন বহাল রেখেছি এবং ধর্ষণ আইন সংস্কার জোটের দশ দফা দাবির ব্যাপারে অনড়। সম্প্রতি সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারার বিলুপ্তি চেয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। এই ধারার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে আদালতে তাকে আর হেনস্তা করা যাবে না।
সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরে বলা হয়, নারীর ওপর সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ সংক্রান্ত সকল আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিন। যৌন নিপীড়ন ঘটনার তদন্তে সম্পৃক্ত পুলিশ, চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। থানা, হাসপাতাল ও আদালতকে নারীর প্রতি মর্যাদাসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ নেওয়া হোক। পাঠ্যসূচিতে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও বৈষম্যমূলক বিষয় এবং ভাষা ও শব্দ বাতিল করার দাবিও জানান তারা।