৮০ বছর বয়সী আলোকিত নারী বেদেনা আমিনকে সম্মাননা 

‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সফল জননী মনোনীত হয়েছেন পাহাড়ি সীমান্ত ঘেঁষা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বরুয়াকোনা গ্রামের বাসিন্দা মোসা. বেদেনা আমিন। তার স্বামী মরহুম হাজী ইব্রাহিম আমিন ছিলেন ধর্মপ্রাণ, সমাজসেবক ও ধনাঢ্য ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রোকেয়া দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ এর সম্মাননা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন নেত্রকোনার মিলনাতয়নে ৮০ বছর বয়সী আলোকিত নারী বেদেনা আমিনকে এ সম্মাননা জানানো হয়।

সফল এ জননী নিজে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারলেও সন্তানদের করেছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এবং পড়িয়েছেন দেশ সেরা বিদ্যাপীঠে। সার্টিফিকেট না থাকলেও মনের আলোয় শিক্ষিত নারী বেদেনা আমিন। দুর্গম পাহাড়ি জনপদ, নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অপ্রতুল শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেও সন্তানদের করে তুলেছেন শিক্ষিত ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।

১০ সন্তানের সংসার সামলে তাদের নিয়ম করে স্কুলে পাঠাতেন এবং দেশের নামকরা বিদ্যাপীঠে পড়ার উৎসাহ যোগাতেন। স্কুল পেরিয়ে কলেজের সময় হলে আশপাশে না পড়িয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন সন্তানদের। তার অনুপ্রেরণায় ছোট তিন ছেলে-মেয়ে দেশ সেরা নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়ার সুযোগ পান। তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে সন্তানদের উৎসাহ দিতেন। বর্তমানে তার সন্তানেরা সুনামের সঙ্গে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। শুধু তাই নয়, সন্তানদের বিয়ের ব্যাপারেও শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন তিনি। প্রায় সব ছেলের বউ এবং মেয়ে জামাই সরকারি চাকরিজীবী।

অত্যন্ত কোমল স্বভাবের মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন এ শিক্ষানুরাগী সন্তানদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ছাত্রছাত্রীদেরও পরীক্ষার ফি-সহ নানাভাবে আর্থিক সহায়তা করে পড়ালেখার প্রতি তাদের উৎসাহ যোগাতেন। পড়ালেখায় ক্লাসে কেউ প্রথম হলে তার বাড়ি গিয়ে অনুপ্রেরণা দিতেন ও অভিভাবকদের বুঝাতেন যেন পড়ালেখা নিয়মিত চালিয়ে যায়।

শুধু সন্তানই নয়, নাতি-নাতনিদের উচ্চশিক্ষার ব্যাপারেও সজাগ এ নারী। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে নাতি-নাতনির মধ্যে দুই জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একজন জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়, একজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, একজন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একজন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, একজন ইডেন কলেজ ও একজন ঢাকা কলেজ অধ্যয়নরত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজে পড়ালেখা করতে না পারলে কষ্ট করে সন্তানদের শিক্ষিত করাই মা হিসেবে তার সফল স্বার্থকতা।