রাষ্ট্রপতির সংলাপে আগ্রহী অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো

আগামী জাতীয় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপে শুধু দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, অনিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমন্বয় পরিষদ।

রবিবার (২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'নিবন্ধনের ফাঁদে গণতন্ত্র কাঁদে' স্লোগানে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলো শুধু রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের পথ খোঁজে। এককভাবে ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় আসীন হওয়াটাই এখানে মূল লক্ষ্য বলে দৃশ্যমান। ফলে বুর্জোয়া দলগুলো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের সুযোগ নিয়ে চলমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সম্ভাবনাময় দলগুলোকে কোণঠাসা করে রাখছে। যা রাষ্ট্রের ন্যায়, কল্যাণ, সাম্য, সুশাসনের জন্য হুমকি।

অনিবন্ধিত দলের নেতারা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনকল্পে যে সংলাপ করছেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আশা করি, এই উদ্যোগে গুরুত্ব পাবে দেশের জনগণ এবং পাশাপাশি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। কারণ, স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকেই সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় এসব কিছুতেই নেতৃত্ব দিয়েছে যে দলগুলো তার সবই ছিল অনিবন্ধিত।

সভাপতির বক্তব্যে সমন্বয় পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিম আজাদ বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি—শুধু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ দেশের জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ওই সব সংলাপ শুধু ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি ও কয়েকটি দলের স্বার্থ সুসংহত করতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আপনি অচিরেই অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমন্বয় পরিষদকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠনে আমাদের মতামত গ্রহণ করবেন।

যুক্তফ্রন্টের সাবেক সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ গণ-সংস্কৃতি দল (বাগসদ) সভাপতি সরদার শামুস আল-মামুনের (চাষী মামুন) সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-বিএলডিপি ও সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী এম নাজিমউদ্দীন আল-আজাদ। সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য প্রদান করেন প্রায় ৩০টির অধিক অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং জোটের জাতীয় নেতারা।