জামালপুর জেলার ইসলামপুর জে জে কে এম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইলে ফেসবুকে মেসেঞ্জারে এবং ইমোতে আপত্তিকর কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তের পর কলেজটিতে নারী অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর থেকে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।
ওই চিঠিতে তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইলে ফেসবুকে মেসেঞ্জারে এবং ইমোতে আপত্তিকর কথা বলার বিষয়ে তথ্যের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। এক্ষেত্রে অধ্যক্ষর মোবাইল এবং সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্টে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
চিঠিতে জানানো হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পান তদন্ত কর্মকর্তা। দুদক গত ৩০ ডিসেম্বর অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে পত্র দেয়।
এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ), সহকারী পরিচালক (কলেজ) এবং আঞ্চলিক কার্যালয়কে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে তদন্ত টিম প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে দক্ষ নারী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরি। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম, অনলাইন রুটিন বাস্তবায়ন ও কোভিড স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যোগ্যতার অভাব রয়েছ। পূর্ণ অধ্যক্ষ নিয়োগের আগের অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পাঠানো প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ মো. আব্দুছ ছালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর্থিক বিষয়াদির অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আর্থিক অনিয়মের জন্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ, সুপারিশ ও মতামতের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব/ব্যাখ্যা পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর।