পাসপোর্ট হারিয়ে দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশি আলী

পাসপোর্ট হারিয়ে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন প্রবাসী আলী হোসেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি ঢাকা থেকে দুবাই পৌঁছান। দুবাই এয়ারপোর্টে তিনি এক কাপড়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন, যদি পাসপোর্ট ফিরে পান। এদিকে, তার স্বজনরা আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাকে দুবাইয়ে প্রবেশের ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, ৭ জানুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন আলী হোসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০০৪৭ ফ্লাইটে দুবাই যাবেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিং শেষে ইমিগ্রেশন করেন আলী হোসেন। তার সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগে তিনি পাসপোর্টটি রেখেছিলেন। সেই ব্যাগটি গলায় ঝুলিয়ে নিয়েছিলেন। এক দশক ধরে দুবাইয়ে কাজ করেন আলী হোসেন। প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে উড়ে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রীদের নামিয়ে দিলো বিমান। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন করতে গিয়ে আলী হোসেন টের পান ব্যাগে পাসপোর্ট নেই।

দুবাই থেকে আলী হোসেনে বলেন, ‌‘আমি তো পাসপোর্ট দিয়ে ঢাকায় ইমিগ্রেশন শেষ করে ফ্লাইটে উঠেছি। আমার গলায় ঝুলানো ব্যাগের মধ্যে পাসপোর্টি রেখেছিলাম। কিন্তু দুবাই এসে ইমিগ্রেশন করতে গিয়ে দেখলাম, পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্ট না পেয়ে এখন ইমিগ্রেশন করতে পারছি না, ‍দুবাইয়েও প্রবেশ করতে পারছি না। বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছি, যদি কোনোভাবে পাসপোর্ট ফিরে পাই।’

বিমানবন্দরে আটকে পড়ে এক কাপড়ে বসে আছেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখানে এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আমার সঙ্গে টাকা পয়সা নেই। বাইরে থেকে কেউ টাকা দিয়ে যাবে সেই সুযোগও নেই। বিমানবন্দরে যাত্রী, পুলিশ অনেকেই খাবার দিয়েছে, সেটা খেয়ে দিন পার করছি।’

দুবাইয়ে মো. জাহিদ নামের এক বাংলাদেশির দোকানে কাজ করতেন আলী হোসেন। জাহিদ বলেন, ‘সে আমার দোকানে কাজ করে। তার ভিসাসহ সবকিছুই আছে। কিন্তু পাসপোর্ট হারিয়ে এখন বিপদে পড়েছে। আমরা দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেছি। তারাও দুবাই ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করছে। দুবাই পুলিশের কাছেও জানানো হয়েছে।’

জাহিদ আরও বলেন, ‘সে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের আগে যে জায়গায় আছে, সেখানে বাইরে থেকে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। গত দুই দিন আমরা খাবার, টাকা নিয়ে গিয়েছিলাম তাকে দেওয়ার জন্য, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা করতে পারিনি। এখন সেখানে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় খাবার খাচ্ছে সে।’