সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২২’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার বক্তৃতা করেন।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় আমরা খাদ্য সংকট দূর করতে চেয়েছি। এখন সরকার চায় নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে। পরবর্তী সময়ে গুণগত মানের আরও সমৃদ্ধ খাদ্য সবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। ল্যাবরেটরিতে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পরীক্ষা করে এর গুণগত মান ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে— দেশে অন্তঃসত্ত্বা মা, ছোট শিশু, যুবক ও বৃদ্ধরা যেন পরিপূর্ণ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পায়। এভাবে সবার জন্য নিরাপদ খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি করেছেন। যার ফলে ২০১৫ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়।’
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে খাদ্যের সংকট নয়, উদ্বৃত্ত থাকছে। খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, খামারি, উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কর্মকর্তারা এ কৃতিত্বের দাবিদার। এক সময় আমরা বলতাম— খাদ্য ঘাটতি মেটাতে হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন— শুধু খাদ্য ঘাটতি নয়, খাদ্যের গুণগত মানের পরিবর্তন করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের বড় একটি যোগান আসে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম থেকে। মাছ, মাংস ও ডিমে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতাই না, বরং উদ্বৃত্ত অবস্থা এসেছে এবং বিশ্বে রফতানি করার মতো পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি। অদূর ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদনেও সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি এ খাদ্য উপাদানগুলোর বহুমুখী ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুধ থেকে কত প্রকার দুধ জাতীয় পণ্য তৈরি করা যায়, মাছ থেকে কত প্রকার মাছ জাতীয় পণ্য তৈরি করা যায়, মাংস থেকে কত প্রকার মাংস জাতীয় পণ্য তৈরি করা যায়, সে প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।’ শুধু সরকারি কর্তৃপক্ষের দিকে না তাকিয়ে অনিরাপদ খাদ্য তৈরি ও বিক্রি বন্ধে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে ভূমিকা রাখার জন্য এসময় আহ্বানও জানান মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘সুস্বাস্থ্যের মূলনীতি, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি’ এ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২২’ পালিত হয়।