‘আমি এর আগেও বলেছি আমি আমার স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছি। দৈনিক আজাদীকে বাঁচিয়ে রাখা ও সর্বত্র পৌঁছে দেওয়াই আমার সেই স্বপ্ন। আজাদী আছে বলেই আজ এই সম্মাননা পেলাম’—বলছিলেন ২০২২ সালের একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম এ মালেক। পদকপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময়ের সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু বলতে চান কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কথা বলি। কিন্তু আমার বিবেচনায় সাংবাদিকতায় সেই শব্দের স্থান নেই, থাকা উচিতও না। আমার বিবেচনায় বিষয়টি সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় থাকলে ভালো। আর সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলে জনগণ আস্থা রাখবে।
এম এ মালেক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক। কীভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা সে কথা জানান তিনি। বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে শুনে পত্রিকার সাংবাদিক-কর্মচারীরা সেদিন ছুটে এসে দাবি করেছিল পরের দিনই পত্রিকা বের করার। সেই রাতে সবাই মিলে কাজ করে আমরা পরদিন সকালে কাগজ বের হয়েছিল। ডিমাই ওয়ান ফোর সাইজের কাগজ।’
তার জানা মতে ১৭ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশে একটাই পত্রিকা বেরিয়েছিল। সেটা দৈনিক আজাদী।
গতবছর সেরা করদাতার সম্মাননা পান এম এ মালেক। সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
এতবছর ধরে পাঠক ধরে রাখলেন কী করে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পাঠকের কিছু আকাঙ্ক্ষার জায়গা থাকে। আমি জানি তারা কী চায়। যদিও কোন মানুষের পক্ষে কারও আকাঙ্ক্ষা শতভাগ পূরণ সম্ভব নয়। কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমরা পাঠকদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ আকাঙ্ক্ষার জায়গা পূরণ করতে পেরেছি। আরেকটা কারণেও পাঠক আমাদের সঙ্গে থেকেছে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের কাগজের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আমরা মাসে বিশ থেকে পঁচিশ দিন চট্টগ্রামের খবরকে আঞ্চলিক ভাষাতে লিড করি। আমরা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খবরগুলোকেই প্রাধান্য দেই। সেটার কারণেই গ্রহণযোগ্যতা টিকে আছে এমনও হতে পারে।
দৈনিক আজাদী চট্টগ্রাম থেকে ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রকাশিত হয়। আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক। তার মৃত্যুর পর সম্পাদকের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। তার মৃত্যুর পর ২০০৩ সালে থেকে দৈনিক আজাদীর দায়িত্বে আছেন এম এ মালেক। দেশসেরা আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে দৈনিক আজাদী বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কারও পেয়েছে।
যা করতে চেয়েছিলেন সেটা করতে পেরেছেন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবল পত্রিকাটা দাড় করানো ছিল আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। সেটা করতে পেরেছি। সেজন্য আজ এই সম্মান এসেছে।আজাদী বাঁচিয়ে রাখা ও সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমি আমার স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছি।