দীর্ঘ ৩৫ বছর আগের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার হোসেনদি ইউনিয়ন পরিষদের চার জনপ্রতিনিধিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহীন আহমেদ।
পরে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় আসামিদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। এর ফলে সাজার রায় বাতিল হওয়ায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। এতে করে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা ও জরিমানার রায়ও বাতিল হয়ে গেল।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাস্তা সংস্কারের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সেই মামলায় হোসেনদি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাস্টার, ইউপি সদস্য মানসুরুল হক, মো. আব্দুল ও মনজুরুল হককে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৪ দিন মাটি কেটে সড়ক সংস্কারের কথা বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে দেখা যায় যে, এ সময়ে মাটি কাটা হয়েছে মাত্র এক হাজার ২০ ঘনফুট। এতে তারা ২৬৬ মন গম আত্মসাত করেছেন। এ ঘটনায় ১৯৮৭ সারের ২০ জুন পাকুন্দিয়া থানায় মামলা হয়। পরের বছরের ১৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।
এরপর ১৯৯০ সালের ৮ নভেম্বর দন্ডবিধির ৪০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আসামিদের প্রত্যেককে ৬ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।
এদিকে আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় মারা যান আসামি মনজুরুল হক। আপিল করলেও সেখানে দুদককে পক্ষভুক্ত না করায় এই মামলা উচ্চ আদালতে শুনানি হয়নি। পরে ২০২১ সালে দুদক এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়। আজ এ মামলার আপিল শুনানি নিয়ে রায় দিলেন হাইকোর্ট।