সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্রার্থিতায় আ.লীগের সমর্থনে আলোচনায় যারা

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে আসছে মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন— তা নিয়ে দেশের আইনজীবী সমিতিজুড়ে চলছে আলোচনা। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে আলাপ করে বেশ কয়েকজনের নাম জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্যদের মধ্য থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৪টি পদে এই নির্বাচনে প্রতি বার আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নামে অংশ নিয়ে থাকে; যা প্যানেল সাদা প্যানেল নামেও পরিচিত। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, যা নীল প্যানেল নামে নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে। তবে গেল বারের নির্বাচনে রঙ দিয়ে প্যানেলের পরিচিতি তুলে ধরা হয়নি।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, একেএম ফয়েজ, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, শফিক ইসলাম বাবুল, কেএম সাইফুদ্দিন, রবিউল আলম বুদু ও ড. বশির আহমেদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীর বাড়ি নরসিংদীর পলাশীতে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অ্যাডভোকেট একেএম ফয়েজ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের আইনজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি কুমিল্লার সন্তান এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একজন সদস্য।

সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক, সাবেক সম্পাদক, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠায় সৃষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি কারানির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী সমিতির সাবেক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঢাকার সন্তান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে একাধিকবার কারানির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দুই বার সদস্য ছিলেন।
 
অ্যাডভোকেট শফিক ইসলাম বাবুল সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক দফতর বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তিনি।

ঢাকার দোহারের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কে এম সাইফুদ্দিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ ঢাকা মহানগর কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও অত্র সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল' অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুলা) সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে তিন বার প্রার্থী হয়েছিলেন। আর ড. বশির আহমেদ সমিতির সাবেক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একজন সদস্য।

আইনজীবী ভোটাররা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেকেই নিজেকে উপস্থাপন করতে শুরু করেছেন। কিন্তু এটা হলো একটি প্রক্রিয়া। তাই একটি নির্বাচনের পর থেকে পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থিতা না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক আচরণ, জনপ্রিয়তা, বিপরীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবে কিনা, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী।

সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন, (বাম থেকে) ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল, মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক
 
এদিকে সমিতির সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল। তিনি বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি, আলোর মঞ্চের সভাপতি ও পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সমিতির সম্পাদকীয় পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনিও সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বেক্সিমকোর আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
সুপ্রিম কোর্টে ‘কাপল আইনজীবী’ হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার চৌধুরী ও মোতাহার হোসেন সাজু। সমিতির সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোতাহার হোসেন সাজুর নামটিও আলোচনায় রয়েছে। মোতাহার হোসেন সাজুর বাড়ি বৃহত্তর ঢাকার মানিকগঞ্জে। তিনি সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ সম্পাদক, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আরও আলোচনায় আছেন গাজীপুরের সন্তান ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেনের নাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী ব্যারিস্টার ফাওজিয়া আক্তারও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
 
অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে একটি সুন্দর আইনজীবী সমিতি, বিচার ব্যবস্থা এবং সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখার চেষ্টা করবো।
 
প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্যদের মধ্য থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের বাংলাদেশে বিশ্বাসী আমরা সেসব আইনজীবীকেই আমাদের পরিষদের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেবো। একইসঙ্গে আইনজীবীদের কাছে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তাও আমরা বিবেচনা করবো।

প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের কাছে শিগগিরই আবেদন চাওয়া হবে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।