টিসিবির লাইনে মেসের শিক্ষার্থীরা

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। কম দামে পণ্য পেতে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক সেলের লাইনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তের সঙ্গে এই লাইনে শামিল হচ্ছেন বিভিন্ন কলেজ, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৩ মার্চ ) পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় দেখা যায়, টিসিবি থেকে পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন ধরেছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেসে থাকা শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। তারা জানান, টিসিবির ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা৷ এ পণ্যগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য যথাক্রমে তেল ১৮৫ টাকা, ডাল ১১০ টাকা, চিনি ৮০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ টাকা৷ কিছুটা সাশ্রয় করতেই আমরা টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়েছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু তাহের বলেন, পড়াশুনার সুবাদে সাত বছর ধরে ঢাকায় থাকছি। টিউশন করে নিজের খরচ বহন করি। পাশাপাশি বাড়িতে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতে হয়। গত কয়েক মাস ধরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম এত বেড়েছে যে মেসে থেকে খাওয়াটাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। আগে মাসে দু হাজার টাকার মধ্যে খাওয়া হয়ে যেত। এখন তা তিন হাজার ছুঁয়ে গেছে। টিসিবি কিছুটা সাশ্রয় মূল্যে তেল, পেঁয়াজ বিক্রি করে। তাই এখান থেকেই তা সংগ্রহ করছি।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন,  দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়েছে। তাই খরচ চালাতে একটু বিপাকে আছি। দোকানে যে তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা টিসিবিতে সেটা ১১০ টাকা। এইজন্য আমরা এখান থেকেই কিনছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, আমরা একসঙ্গে একই ইউনিভার্সিটির ১২ জন প্রায় ৬ বছর ধরে মেসে থাকি। দু-তিনজন বাদে প্রায় সবারই আর্থিক সমস্যা আছে। মেসে নিয়ম হচ্ছে একেক দিন একেক জন বাজার করা। এখন জিনিসপত্রে যে দাম তাই ডাল, পেঁয়াজ আর তেল টিসিবির এখান থেকে কিনছি। যদিও এটা কিনতে অন্ততপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। সরকারের কাছে একটাই দাবি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেন কিছুটা হলেও কমানো হয়। নয়তো আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের মেসে থাকা আরও কষ্টসাধ্য হবে।